ভারত নিজেদের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটায় যে জলপথ দিয়ে, সেই হরমুজ প্রণালী পার হবার জন্য ভারতীয় পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরান অনুমতি দেবে বলে বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে ইরানের বাইরের একটি সূত্র এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ আলোচনাটি ছিল জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সায়াল বলেন, এর বাইরে এই মুহূর্তে কিছু বলাটা সময়ের আগে বলা হয়ে যাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে টেলিফোনে কথা হওয়ার পর ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে ইরানের প্রশাসন কীভাবে এই নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করবে, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে।

ভারতের এস. জয়শঙ্কর এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির মধ্যকার আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের অনিরাপদ পরিস্থিতি এবং সমস্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা উচিত। তবে, কোনো পক্ষই ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির কথা উল্লেখ করেনি।
এদিকে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল নিয়ে প্রথম ভারতীয় জাহাজ হিসেবে 'শেনলং' মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কারটি ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের হয়ে তেল নিয়ে এসেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর দুই পাশে প্রায় ৭৭৮ জন ভারতীয় নাবিকসহ ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
ইরানি নাবিকদের আশ্রয় দিচ্ছে ভারত
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একটি ইরানি জাহাজ ভারতের বন্দরে ভেড়ার পর সেখান থেকে ১৮৩ জন ইরানি নাবিককে ভারত নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নৌ-মহড়া শেষে তিনটি ইরানি জাহাজকে ভারত ডক করার অনুমতি দিয়েছিল, যার মধ্যে একটি পরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ডুবে যায় এবং অন্যটি শ্রীলঙ্কার সহায়তা চেয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বুধবার ভারত অভিমুখী একটি থাই জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ভারত এখন বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে আরও বেশি তেল কেনার কথা ভাবছে।
