ইরানকে পুরোপুরি দমনের ডাক দিলেন আমিরাতি দূত

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

চলমান ইরান-মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল-ওতাইবা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শুধু একটি সাধারণ ‘যুদ্ধবিরতি’ এই সংকটের সমাধান নয়। বরং তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির চিরস্থায়ী অবসান ঘটিয়ে একটি চূড়ান্ত মীমাংসা প্রয়োজন। অর্থাৎ অভিযান তীব্র করার পক্ষে আমিরাত।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক নিবন্ধে ওতাইবা আমিরাতকে এই যুদ্ধের ‘সম্মুখ সারির যোদ্ধা’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান এ পর্যন্ত আমিরাতে ২,১৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাঠিয়েছে।  তবে তেহরান পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সৈয়দ ইমামিয়ানের মতে, ইরান আমিরাতে হামলার অন্যতম কারণ হলো, সেখানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি।


২০২০ সালের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পর থেকে ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে আবুধাবি। এই ঘনিষ্ঠতা সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এমনকি সৌদি রাজকীয় আদালতের ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষাবিদ আমিরাতকে আরব্য বিশ্বে ‘ইসরায়েলের ট্রোজান হর্স’ বা গুপ্তচর হিসেবেও অভিহিত করেছেন। ওতাইবা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের প্রক্সি গ্রুপগুলোকে দুর্বল করা হয়েছে এবং তাদের মিসাইল ও ড্রোন হুমকি নির্মূল করতে আরও সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।


দুবাইয়ের সাবেক পুলিশ প্রধান ধাহি খালফান তামিম পশ্চিমা দেশগুলোকেই প্রকৃত ‘বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে আরব দেশগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেছেন। আমিরাতের এই আগ্রাসী সুরের পেছনে একটি গভীর কৌশলগত ঝুঁকি দেখছেন বিশ্লেষকরা। কিংস কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, আমিরাত এখন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে চায়, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে, যদিও বাস্তবে ইরানের সামরিক অভিযানের মুখে তারা অনেকটা দিশেহারা। তিনি আরও মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো বড় সামরিক অভিযানে সরাসরি অবদান রাখার মতো কৌশলগত গভীরতা বা সক্ষমতা আমিরাতের একার নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি উপসাগরীয় অংশীদারদের বাদ দিয়ে সরাসরি ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে যৌথভাবে ‘হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনায় বসতে পারেন। ট্রাম্পের এমন অবস্থান আমিরাতকে বিপাকে ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের রিপাবলিকানদের কাছে বিশ্বস্ত সামরিক অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে গিয়ে আবুধাবি প্রকৃতপক্ষে ইরানকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে।


আর্থিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ওপর ভিত্তি করে আমিরাত তাদের যে অর্থনৈতিক মডেল তৈরি করেছিল, ইরানের পাল্টা হামলায় তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেঁধে দিয়ে আমিরাত এখন নিজস্ব অঞ্চলেই বন্ধুহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

এআরএস
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করার পাশাপাশি যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ওয়াশিংটনের এই সামরিক...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, জর্ডানে...
আমেরিকার সাথে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির কট্টরপন্থীরা বর্তমান দৃশ্যমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক নীরব অভ্যুত্থান...
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিনিময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত রবিবার তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর