সাত সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রথম বড় প্রচেষ্টাটি চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। শনিবার অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করার সময় গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও শিপিং সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই কৌশলগত জলপথে পুনরায় কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটলো। খবর রয়টার্সের।
শনিবার সকালে সামুদ্রিক ট্র্যাকারগুলোতে আটটি তেলবাহী ট্যাংকারের একটি বহরকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল বড় কোনো জাহাজ বহরের প্রথম যাতায়াত। এর আগে, বৃহস্পতিবার লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান সাময়িকভাবে এই প্রণালি খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধের নামে ‘জলদস্যুতা’ এবং ‘বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ আবারও আগের মতো কঠোর সামরিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ‘সদিচ্ছা’ দেখিয়ে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও মার্কিন উসকানিমূলক আচরণের কারণে পুনরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক উদ্ধত বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের নৌবাহিনী শত্রুদের ওপর ‘নতুন ও তিক্ত পরাজয়’ চাপিয়ে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তাঁর এই বার্তা ওই অঞ্চলে সংঘাতের মাত্রা আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান বিষয়ে ‘বেশ কিছু সুসংবাদ’ পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্যে যদি কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি না হয়, তবে পুনরায় লড়াই শুরু হতে পারে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নতুন করে সামরিক কড়াকড়ি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমেরিকার সঙ্গে পরবর্তী সংলাপে এখনও সম্মতি দেয়নি ইরান
হরমুজ প্রণালী নিয়ে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধে ট্রাম্প ও তেহরান
হরমুজ প্রণালীতে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করলো ইরান