যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের অভাবনীয় জয়কে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী দ্বিপক্ষীয় সমর্থনের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও গাজা যুদ্ধের চরম নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন ব্যালট বাক্সে ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের ধস নামানোর পর, এবার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়েই নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত সুযোগ খুঁজছে ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক জোট।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটও সরকার গঠনের স্পষ্ট মেজরিটি নিশ্চিত করতে পারেননি। দুই পক্ষই ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজাক হারজোগ এখন বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে যে কোনো একজনকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। আর এই মধ্যবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
ঐতিহাসিকভাবে বিগত কয়েক দশক ধরে ডেমোক্র্যাট কিংবা রিপাবলিকান- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, ইসরাইল ছিল তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ পরম মিত্র। কিন্তু পূর্বসূরি ইসরাইলি নেতাদের মতো দুই দলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক না রেখে নেতানিয়াহু সরাসরি ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের প্রতি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন।

২০২৩ সালের গাজা অভিযান এবং চলতি বছরে ইরানের ওপর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে সাধারণ মার্কিনি ও ডেমোক্র্যাটদের মাঝে ইসরাইলি নীতির তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের এই ক্ষোভের মুখ বন্ধ করতে ভোটের দিন স্বয়ং ট্রাম্পও ঘোষণা দিতে বাধ্য হন যে, ইসরাইলকে দেওয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সাহায্য বন্ধ করা হবে।
মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে হাতিয়ার করে সোশাল মিডিয়া এক্সে বার্তা দিয়েছেন ইসরাইলের মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়াইর গোলান। তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় শিবিরের কাছেই নেতানিয়াহু এখন কতটা বিষাক্ত।"
অন্যদিকে মধ্যপন্থী বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ মন্তব্য করেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই আর এক মুহূর্তের জন্য নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখা ইসরাইলের পক্ষে সম্ভব নয়। এক বার্তায় তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্ত আমাদের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে, গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছে।
তবে এই বড় পরাজয় ও মার্কিন রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তাঁর কার্যালয় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করে চরম নীরবতা বজায় রেখেছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর উদি সোমার মন্তব্য করেছেন, আগামী দিনে মার্কিন আইনসভায় ডেমোক্র্যাটদের এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিহাসেই ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বৈরী ও কঠোর কংগ্রেস হতে যাচ্ছে। যদিও পররাষ্ট্রনীতির মূল চাবিকাঠি প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে, তবুও তদন্ত, বাজেট আটকানো এবং শুনানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা তেল আবিবের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখবেন, তা নিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
