নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয় সৃষ্টি করলো যে ঘটনা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০ এএম

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে এই বিপর্যয়ের কারণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো।


উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবির একটি সমন্বিত রূপ। ২৫ আগস্ট- অর্থাৎ, ধ্বংসাত্মক বন্যার আগে (উপরে) এবং ২৬ আগস্ট- অর্থাৎ দুর্যোগের পরে (নিচে) নেপাল-চীনের তিব্বত সীমান্তের নিকটবর্তী উপত্যকাগুলোর দৃশ্য তুলে ধরেছে        ছবি: প্লানেট ল্যাব
প্রাথমিকভাবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে হিমবাহ ধসে পড়ে এই আকস্মিক প্লাবনের সৃষ্টি হয়। তবে, মার্কিন ভূখাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা নতুন বিশ্লেষণে নিশ্চিত করেছে, ঘটনাটি মূলত কোনো ভূমিকম্প ছিল না। বরং বিশাল একটি ভূমিধসের প্রবল শক্তির কারণেই ভূমিকম্পের মতো কম্পন বা 'সিসমিক এনার্জি' তৈরি হয়েছিল।


তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদী ভোটেকোশীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া তীব্র ঢল ও আকস্মিক বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি জেলাহিমালয় গবেষণা ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তিব্বত অঞ্চলের কোনো পাহাড় থেকে বরফের এক বিশাল খণ্ড (হিমবাহের অংশ) নিচে খসে পড়ে। পতনের সময় ঘর্ষণের ফলে বরফ গলে প্রচুর পানি উৎপন্ন হয় এবং সাথে আসা শিলা ও পলি লেন্দে খোলার নদীর গতিপথে একটি সাময়িক কৃত্রিম বাঁধ বা বাধার সৃষ্টি করে।

নেপালের নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় খরস্রোতা কাদা-পানির তোড়ে ভেসে গেছে একের পর এক গ্রাম
পরবর্তীতে এই অস্থায়ী বাঁধটি ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদার তোড় একসাথে নিচের দিকে নেমে এসে এই প্রলয়ংকরী বন্যার রূপ নেয়। তবে ঘন বর্ষার মেঘের কারণে স্যাটেলাইট চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় বৈজ্ঞানিকেরা ঘটনার চূড়ান্ত ধারা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছেন।

নেপালের তিব্বত সীমান্তের কাছে ধাদিং জেলার গলছিতে আকস্মিক বন্যায় সম্পত্তির ক্ষতি ও রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়েছে
বর্তমান পরিস্থিতি ও নতুন বন্যার আশঙ্কা:
দুর্গত এলাকায় নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উপরে প্রবাহিত হওয়ায় এবং পানির উচ্চতা না কমায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো অনেক স্থানেই অবতরণ করতে পারছে না। ফলে কাদা ও বানের পানিতে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশাল এলাকাজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান চলছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, তিব্বতে ভূমিধসের ফলে হয়তো কোনো নদী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল এবং পরে নদীর জলস্তর বেড়ে তা বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসে
বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছেন যে, লেন্দে খোলার উজান এলাকায় এখনো পলি ও পাথরের অবরুদ্ধতা রয়ে গেছে, যা যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যা বা পাহাড়ি ঢল তৈরি করতে পারে। এই নদীর পানি ভারতের প্লাবনভূমিতে প্রবাহিত হওয়ায় নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশ রাজ্যে বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে তিমুরে মোতায়েন করা এপিএফ`র নয়জন সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে
আন্তর্জাতিক উদ্ধার তৎপরতা:
উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে। এছাড়া সীমান্ত ক্রসিং ও ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে চীন অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকারী কর্মী মোতায়েন করেছে। প্রতিবেশি দেশ ভারত কাঠমান্ডুর সাথে সরাসরি সমন্বয় করে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে ফায়ার ও পুলিশ কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি দ্রুত সাড়া প্রদানকারী বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিব্বত ও নেপালের নিচু অঞ্চলের মানুষদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি

একাত্তর/এআরএস
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক-তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক পর্যটক-তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে—বন্যাকবলিত ও দুর্গম ওই এলাকায় এই সময় এত পর্যটক-তীর্থযাত্রী কেন ছিলেন?
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবারের আকস্মিক বন্যার পর আরও এক প্রলয়ংকরী দ্বিতীয় প্লাবনের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার...
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় এক প্রলয়ংকরী মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিব্বতের জিরোং পোর্ট থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুহূর্তের মধ্যে কীভাবে এক...
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২০১৫ সালে গুম করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। 
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ শতাধিক পর্যটক-তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।
এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক পর্যটক-তীর্থযাত্রী। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে—বন্যাকবলিত ও দুর্গম ওই এলাকায় এই সময় এত পর্যটক-তীর্থযাত্রী কেন ছিলেন?
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর