যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চার বছরের মধ্যে প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্য সফরে মিশর পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ রুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই নির্ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে অঞ্চলের জন্য একটি নতুন ‘নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামো’ গঠনের বার্তা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

কায়রোতে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বর্ণাঢ্য সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বৈঠকে দুই শীর্ষ নেতা অঞ্চলের নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেবের মতো আন্তর্জাতিক কৌশলগত নৌপথগুলোতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বার্ষিক প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার মার্কিন সামরিক সহায়তা পাওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা দ্রুত বাড়িয়েছে মিশর। সফরের অংশ হিসেবে উভয় দেশ ডেটা সেন্টার, সেমিকন্ডাক্টর, সংকটপূর্ণ ধাতুর সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মাসেই উভয় দেশ ‘ঈগলস অফ সিভিলাইজেশন’ শীর্ষক একটি যৌথ মহড়া পরিচালনা করে, যেখানে চীনের তৈরি জে-১৬ এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।

বৈঠক শেষে মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি জানান, বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান পরাশক্তিগুলোর বৈরী প্রতিযোগিতার মধ্যে মিশর কৌশলগত ভারসাম্য নীতি বজায় রাখতে চায়। বেইজিংয়ের জন্য ১১০ মিলিয়নের বিশাল জনসংখ্যার মিশর এবং কৌশলগত সুয়েজ খাল অঞ্চল শুধু একটি অর্থনৈতিক বাজার নয়, বরং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব ক্ষুণ্ন করে কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের এক বড় প্ল্যাটফর্ম।
ইতোমধ্যেই মিশরের সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বুধবার উভয় দেশ এই শিল্প এলাকা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি চীনের ‘জেডসি রাবার গ্রুপ’ সেখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি টায়ার প্রস্তুতকারী শিল্প কমপ্লেক্স গড়ার প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
