মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ ট্রাম্প দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনরের মধ্যস্থতায় তিন দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বৃষ্টির মতো হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ভোরে কিয়েভ জুড়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর।
ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি শত শত ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে অত্যন্ত জটিল এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের সর্বাধিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত বলে অভিহিত করেছেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো ও কিয়েভ সফরের কারণে উভয় পক্ষ রাজধানীগুলোতে আক্রমণ বন্ধ রাখতে ৭২ ঘণ্টার সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই রাশিয়া এই ভয়াবহ আঘাত হানল, যা দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনার স্থবিরতা কাটানোর প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।
মঙ্গলবার ভোরের এই সমন্বিত হামলা কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। কিয়েভের সোলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে আটকা পড়া বেশ কয়েকজন বাসিন্দাকে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার করেন। অন্য জেলাগুলোতে গুদাম ও গ্যারেজ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ওডেসা অঞ্চলের একটি বেসামরিক বাজার এবং খারকিভ অঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ৯০ জন যাত্রী ও ক্রুকে আগেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
আকস্মিক এই হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল, প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক বিমান আকাশে মোতায়েন করতে বাধ্য হয়।

রোববার মার্কিন বিশেষ দূত উইটকফ ও কুশনর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যার আগের দিন তারা মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন। বৈঠক শেষে উইটকফ ত্রিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানালেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে শুক্রবার রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভে অবস্থিত ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিস সদর দপ্তরে আঘাত হানে, যা ইউক্রেনের প্রধান স্থাপনাগুলো রক্ষার অক্ষমতা এবং ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের চরম ঘাটতিকে উন্মোচিত করেছিল।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা গেলেও রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রোখা অত্যন্ত কঠিন, তাই ইউক্রেনের অবিলম্বে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইউক্রেনও সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা জোরদার করেছে; মঙ্গলবার রাশিয়ার সারাতোভ শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
