ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসাবে খ্যাত মুম্বাইয়ে এক রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে চরম আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিকত্বধারী এই অভিনেতাকে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। দেশটির ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর দুটি নির্দিষ্ট ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দেশ ছাড়ার এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মূল ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর। মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান খান। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন জীবনসঙ্গী ও অভিনেত্রী লেখা ওয়াশিংটন এবং খালাতো বোন জেন মেরি খান। বিক্ষোভ চলাকালেই পুলিশ তাদের তিনজনকে আটক করে এবং পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। সে সময় প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে তোলা নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ইমরান কৌতুক করে লিখেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি একটু লং ড্রাইভে যাচ্ছি’।
তবে বিষয়টি হালকাভাবে নেয়নি প্রশাসন। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অভিনেতার অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া এর পরপরই নড়েচড়ে বসে মুম্বাই পুলিশ। অভিনেতাকে ভারত ছাড়া নোটিশ দেয়া হলে, তুমুল বিতর্কের জন্ম হয়।
ইমরান খানের কাছে মূলত আমেরিকার নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তিনি 'ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া' (ওসিআই) কার্ডধারী। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য ২০০৫ সালে চালু হওয়া এই ওসিআই কার্ডের মাধ্যমে আজীবন ভারতে আসা-যাওয়া, পড়ালেখা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা পাওয়া গেলেও এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্ব দেয় না। ফলে ভারতে অবস্থানকালে বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য সব ধরনের আইন তাদের মেনে চলতে হয়।
অভিনেতার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর ৭ ও ২৯ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সরকার যে কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশ, অবস্থান কিংবা চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। অন্যদিকে ২৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন করলে বা তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তার হুমকি সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন থাকলে সরকার তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখে।
রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করায় শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়ার এই চূড়ান্ত নির্দেশের মুখোমুখি হতে হলো ইমরান খানকে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
