ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী ও সেনেটর ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো পাসপোর্ট জমা দেয়ার আদালতের আদেশ অমান্য করে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পাসপোর্ট বাতিলের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ফ্লোরিডায় পৌঁছান বলে নিশ্চিত করেছে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো।
অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত এক মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলিয়ান সুপ্রিম কোর্ট সোমবার ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি পাসপোর্ট জমা দেননি। ফলে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে তাঁর সব ধরনের পাসপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পাসপোর্ট বাতিলের পরপরই দেশের সীমান্ত টহল জোরদার করা হলেও তিনি কীভাবে ব্রাজিলের সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন, সেই রুট এখনো অস্পষ্ট। পরবর্তীতে বিবিসি জানায়, ফ্ল্যাভিও ফ্লোরিডায় তাঁর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বোলসোনারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বোলসোনারো ও তাঁর পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চরম উত্তেজনাপূর্ণ দ্বিতীয় পর্বের রান-অফে বামপন্থি নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো। নির্বাচনে লুলা ৫১.৭৯% ভোট পেয়ে ঐতিহাসিক জয় লাভ করেন, যেখানে বোলসোনারো পান ৪৮.২১% ভোট। তবে ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা বেশি ভোটগ্রহণ চালুর বিষয়টিকে 'কারচুপি' আখ্যা দিয়ে বলসোনারো নির্বাচনী ফলাফল বাতিল ও নির্বাচন পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান, যদিও তাঁর নিজ রাজনৈতিক দল ‘লিবারেল পার্টি’ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে।
পরাজয়ের পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে বিলিয়ন ডলারের অর্থ পাচার মামলা ও নির্বাচনে অবৈধ বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। উল্লেখ্য, তাঁর বাবা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোও সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার দায়ে বর্তমানে গৃহবন্দী আছেন। দেশে অবস্থান করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপের মুখে গোপনে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর দেশত্যাগে ব্রাজিলের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
