অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও গাজায় দখলদার বাহিনীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঢাকা দিতে এবং গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করতে নিয়মিত ‘সত্য বিকৃত’ ও মিডিয়া ম্যানিপুলেশন করা হতো বলে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র ইউনিটের সাবেক সদস্য আয়েলেত ক্রোইজার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক খোলা চিঠিতে তিনি জানান, কীভাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নির্দোষ ও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘সন্ত্রাসী’ তকমা লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে তাদের জনসংযোগ (পিআর) বা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছিল।
নিজের সামরিক পরিষেবার সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে আয়েলেত ক্রোইজার লেখেন, আমার দায়িত্ব পালনের সময় আমি নিজে গণমাধ্যমে পাঠানো তথ্যের বিস্তারিত বিকৃত ও ম্যানিপুলেট করেছি। আমি দেখেছি কীভাবে একদম নির্দোষ ফিলিস্তিনিদের নামের পাশেও ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটা জুড়ে দেয়া হতো এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা অডিয়েন্সকে বিভ্রান্ত করতে বক্তব্য বা বয়ান তৈরি করা হতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইউনিটটি কোনো জবাবদিহিমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ না করে মূলত বর্ণবাদী নীতি ও অন্যায়ের পক্ষে কাজ করা একটি বাণিজ্যিক 'পিআর ফার্মে' পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিন ও গাজার প্রকৃত রূপ প্রত্যক্ষ করার পর সত্যের সাথে তাদের এই সাংঘর্ষিক সম্পর্ক দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের আস্থা অর্জনের নামে সত্যের বিনিময়ে বাহিনীর পিআর চালানোই ছিল তাদের প্রধান কাজ।
ক্রোইজার জানান, তিনি এক গোঁড়া অর্থোডক্স পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন এবং প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিশ্বাস থেকেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি ইসরায়েলের সাবেক সেনাদের দ্বারা গঠিত মানবাধিকার সংস্থা ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর নতুন মুখপাত্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। সংস্থাটি গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিচালিত ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা ও নিপীড়ন সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করে থাকে। নিজের দীর্ঘ বার্তাটি শেষ করে ক্রোইজার ইসরায়েলি সেনাসদস্য ও অন্য সহকর্মীদের চুপ না থেকে যা দেখেছেন তা বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পরিচালিত ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা ও সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংসতম গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকেই সাবেক কর্মকর্তার এই সত্য প্রকাশ ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা যন্ত্রের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি
