যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের পর থেকেই গভীর সংকটের মুখে পড়েছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। হোয়াইট হাউসের অন্দরে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে কঠোর তদন্ত ও অভিশংসনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। তবে এত চাপের মুখেও নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পিছু হটতে নারাজ ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
সম্প্রতি ছয় মিনিটের একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে নিজের আমলের সফলতা তুলে ধরেছেন হেগসেথ। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের মতো আমরাও কখনো পিছপা হইনি এবং হব না। হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলার নিয়োগ পাওয়ার পর তার সাথে নিজের ছবি পোস্ট করে হেগসেথ লিখেছেন, দাঁড়াও, লড়াই করো, প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাকে বরখাস্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন।
তবে পর্দার পেছনের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় ও দেশের অন্যান্য ব্যর্থতার কারণে ভোটাররা রিপাবলিকানদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই হেগসেথকে নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে হেগসেথের সরে দাঁড়ানো উচিত। বিদায়ী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা থমাস ম্যাসি এরিমধ্যে অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এমনকি নিজ দলের মধ্যেও কেউ কেউ তার পদত্যাগ দাবি করছেন। ডেমোক্র্যাটরা নতুন কংগ্রেসে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বড় ধরনের তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সেনেটের কঠিন অনুমোদন প্রক্রিয়া পার হয়ে এর আগেও নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন হেগসেথ—যার মধ্যে রয়েছে সিগন্যাল অ্যাপে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা এবং শীর্ষ জেনারেলদের বরখাস্ত করার মতো ঘটনা। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য এবং রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউস কিংবা কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন হেগসেথকে টিকিয়ে রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: দ্য পলিটিকো
পাঁচ মাসে কোন হতাহত নেই, এটা কোনো যুদ্ধই নয়: ট্রাম্প
ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ কট্টরপন্থী মিলার