মুক্তিযুদ্ধের বাঁক বদল করা এক অভিযানের নাম অপারেশন জ্যাকপট। ৩০০ জন নৌ কমান্ডো একযোগে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নৌ বন্দরে হামলা করে।
অসীম সাহস নিয়ে বুকে বাঁধা লিমপেড মাইন জাহাজে লাগিয়ে দেয়। আর সেটি বিস্ফোরণ করে অচল করে দেয় চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর।
ওই অভিযানে নেতৃত্ব দুই কমান্ডো আমানুর রহমান খসরু ও আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী একাত্তরের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন, অপারেশন জ্যাকপটের সাহসী গল্প।
আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুর বাড়ি… এটি শুধু একটি গান নয়। ১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট তরুণ নৌ কমান্ডার আমানুর রহমান খসরুর কাছে এই গান ছিলো তার দলে থাকা ৬০ জন কমান্ডো নিয়ে মংলা বন্দরে থাকা পাক বাহিনীর জাহাজে চূড়ান্ত হামলার বার্তা।
তারও ২৪ ঘণ্টা আগে আকাশবাণী কলকাতায় বাজে আরেকটি গান। যাতে বার্তা ছিলো ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে হবে অভিযান।
কিন্তু রাতের আঁধারে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে মংলা বন্দরে যাবার পথ ভুল করেন যোদ্ধারা।
রাত দুইটার অভিযান পিছিয়ে যায় আরও দুই ঘণ্টা। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও পাকিস্তানী জাহাজে পাতা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাইন।
একই অভিযান নিয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর তীরে প্রস্তুত ডব্লিও এ চৌধুরীর নেতৃত্বে আরও ৪৮ জন কমান্ডো।
মুক্তিযোদ্ধাদের মাইনে উড়ে যায় পাক বাহিনীর ৯টি জাহাজ। যাতে মজুত ছিলো ২৬ হাজার টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ।
একই রকম হামলা চলে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নৌ বন্দরেও। একদিনের অপারেশন জ্যাকপটে মোট ২৬টি জাহাজ হারায় পাক বাহিনী। কিন্তু হতাহত হয়নি একজনও মুক্তিযোদ্ধা।
এই নৌ কমান্ডোদের আট জন ছিলেন ফ্রান্সের তুঁল সাবমেরিন ইয়ার্ডে, পাকিস্তানের সাবমেরিনের জন্য প্রশিক্ষণে।
আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম এক বন্ধুকে নিয়ে ‘জেকে ১৯৭১’
২৯ মার্চ তারা ফ্রান্স থেকে পালিয়ে মাদ্রিদ ও জেনেভা হয়ে দশ দিন পর দিল্লী পৌঁছান। ভারতে তাদের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ নেন আরও ৩০০ নৌ কমান্ডো।
তাদের তিনমাসের প্রশিক্ষণের ফলাফল মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য বিজয় গাঁথা অপারেশন জ্যাকপট।
অথচ ৭৫ সালের পনের আগস্টের পর দেশ ছেড়ে জার্মানিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন মংলা বন্দরের অভিযানে নেতৃত্বে দেওয়া এসব মুক্তিযোদ্ধাকে।
একাত্তর/আরএ
