বন্ধুদের হাতে রঙিন ব্যান্ড বাঁধা, সারপ্রাইজ গিফট দেওয়া আর সোশ্যাল মিডিয়ায় মিষ্টি সব বার্তা পাঠাতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু প্রতি বছর আগস্টের শুরুতেই একটাই খটকা মাথায় ঘোরে, আসল 'বন্ধু দিবস' বা ফ্রেন্ডশিপ ডে কোনটি? ২০২৬ সালে এসেও কি একই দ্বিধায় পড়েছেন?
৩০ জুলাই নাকি ২ আগস্ট? আসল সত্যিটা হলো, দুটো দিনই একদম খাঁটি এবং সঠিক! তবে তাদের উদযাপনের ধরন ও ইতিহাস একেবারেই আলাদা।
প্রতি বছর ৩০ জুলাই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’। এই উদযাপনের ইতিহাসটা বেশ পুরোনো। ১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়ের বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. রামোন আরতেমিও ব্রাচো প্রথমবার মানুষের মাঝে শান্তি ছড়িয়ে দিতে ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’ শুরু করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতি ও মানুষের মাঝে সম্প্রীতি, শান্তি এবং বিশ্বজনীন সম্পর্ক জোরদার করাই জাতিসংঘের এই উদযাপনের প্রধান উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় বহু বছর ধরে আগস্টের প্রথম রোববার ফ্রেন্ডশিপ ডে উদযাপিত হয়ে আসছে, যা এই বছর পড়েছে ২ আগস্ট। এই ধারার সূচনা হয়েছিল ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে। 'হলমার্ক কার্ডস'-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়স হল প্রথমবার কার্ড আদান-প্রদানের মাধ্যমে বন্ধুদের সম্মানিত করার এই ট্রেন্ড চালু করেন।
পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে বন্ধুদের আড্ডা, ব্যান্ড আদান-প্রদান আর উপহার দেওয়ার মাধ্যমে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। যেহেতু আগস্টের প্রথম রবিবার একটি ছুটির দিন, তাই বন্ধুদের সাথে পুরোটা সময় হইচই করে কাটানোর দারুণ সুযোগ এনে দেয় এই দিনটি।

তাহলে মূল তফাৎটা কোথায়? ৩০ জুলাইয়ের ফোকাস হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা, আর ২ আগস্টের উৎসবটি একদমই ব্যক্তিগত আড্ডা, নস্টালজিয়া আর শৈশব-কৈশোরের বাঁধনকে নিরেট উদযাপনের দিন! তাই দ্বিধা দূরে সরিয়ে রেখে বন্ধুদের সাথে ভালোবাসা শেয়ার করতে দুটো দিনই উদযাপিত হতে পারে সমান আনন্দে।
তথ্যসূত্র: দ্য সানডে গার্ডিয়ান
