বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার বিনিময়ে সরকারের ভর্তুকি ও স্কুল কলেজের সেশন ফি থেকে টাকার ভাগ চেয়েছেন বাস মালিকরা।
তাদের এমন অভিনব দাবির মুখে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করা সংক্রান্ত বিআরটিএ এর বৈঠক কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
বাস মালিকরা কিভাবে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নেবে সেটি ঠিক করতে একটি টাক্সফোর্স গঠনের দাবি উঠেছে। অর্ধেক ভাড়া চূড়ান্ত করার বিষয়ে আবারও বৈঠকের কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।
বাসে অর্ধেক ভাড়া নেয়ার দাবিতে শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে বিআরটিসি পহেলা ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেবে।
এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি বাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠকে বসে বাস মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিরা।
প্রায় দুই ঘন্টা বৈঠকে মালিকদের পক্ষ অর্ধেক ভাড়া নেয়ার বিনিময়ে সরকারের কাছে ভর্তুকি দাবি করে। সেই সঙ্গে স্কুল কলেজের সেশন ফি থেকেও টাকার ভাগ চান বাস মালিকরা।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সরকার ছাত্রদের দাবি যৌক্তিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। ঢাকার ৮০ ভাগ মালিক গরিব। হাফ ভাড়া নিলে মালিকদের যে ক্ষতি হবে, তা সরকার কীভাবে পূরণ করবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। সবার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি’।
ছাত্রদের অনুরোধ জানিয়ে এই পরিবহন নেতা বলেন, হাফ ভাড়ার দাবিতে বাস ভাঙচুর, শ্রমিকদের মারধর অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যায়।
টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘বাসে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নে পরিবহন নেতারা আন্তরিক। কিন্তু তাদের যে ক্ষতি হবে তা কীভাবে পূরণ করা হবে, কত ভর্তুকি দেবে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সরকার ও পরিবহনে সম্পৃক্তদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। সরকারকে টাস্কফোর্সের বিষয়ে জানাব’।
আর এসব বিষয়ে ফয়সালা করতে সময় লাগবে জানিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ।
একাত্তর/এআর
