মহান স্বাধীনতা দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধায় একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণ
করছে জাতি। প্রত্যয় নিলো নতুন প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যের বাংলাদেশ
গড়ার।
করোনার বিধিনিষেধ না থাকায়, শনিবার সাভার জাতীয় স্মতিসৌধে ঢল নামে হাজারো মানুষের। নিজ নিজ দলীয় আদর্শে দেশকে এগিয়ে নেয়ার শপথ নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার স্বাধীনতা। লাল-সবুজের পতাকা। রক্ত দিয়ে কেনা এই পতাকা। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের জায়গা করে নেয়া।
যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের পরিচয়, ২৬ মার্চ জাতির সেই সূর্য সন্তানদের স্মরণ করার দিন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানানোর দিন।
একাত্তরের এই দিনেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইয়ে নামে বাঙালি জাতি। বিজয় নিশান উড়িয়ে যার শেষটা হয় ১৬ ডিসেম্বর।

শনিবার, স্বাধীনতা দিবসের সকালে একাত্তরের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো মানুষের ঢল নামে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে গেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।
জনতার স্রোত যেখানে গিয়ে মিশছে সেখানেই ফুটে উঠছে লাল-সবুজ। কপালে ও গালে জাতীয় পতাকা, পরনে লাল-সবুজের পোশাক। হাতে হাতে ফুল।
লাল-সবুজের শাড়ি কিংবা পাঞ্জাবি পরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঘণ্টা না পেরোতেই পুষ্পাঞ্জলিতে ভরে যায় স্মৃতিসৌধ।
স্বাধীনতার ৫১ বছরে দাঁড়িয়ে সবাই বললেন, উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশ বহুদূর এগিয়েছে। অর্জনও আছে অনেক। তবে, কাঙ্ক্ষিত সাম্যের সমাজ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক, তবে স্বপ্ন পূরণে পেরোতে হবে আরো
অনেকটা পথ। দ্রব্যমূলের লাগাম টেনে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছাতে হবে খেটে খাওয়া মানুষের
ঘরেও।
এক তরুণ বলেন, এই দেশটাকে অনেক বেশি ভালোবাসি। কিন্তু দুর্নীতি গ্রাস করে ফেলেছে। দুর্নীতির কারণে অনেক দেশ শেষ হয়েছে।
কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বললেন, এ মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে চাকরিতে প্রবেশে মোটা অংকের ঘুষ ও স্বজনপ্রীতি।
এক বৃদ্ধ বলেন, ৫০ বছরেও মেলেনি প্রত্যাশার অনেক কিছু। বেড়েছে অভাব। সরকারের উচিত মানুষকে ভালো রাখতে বৈষম্য দূর করা। সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নিজ নিজ দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে একান্নর বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করেছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
একাত্তর/আরবিএস
