জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আগাম কর ও আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে দুই একদিনের মধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম কমানো হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, কর ও শুল্ক কমানো তেলের দামে কতোটা প্রভাব ফেলবে তা খতিয়ে দেখার কথা বলছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান।
গেলো ৫ আগস্ট বেড়েছে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেল ও কেরোসিনের দাম। এক লাফে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্য পণ্যে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন কমছে তখন দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে সরকারকেও। দাবি উঠে তেল দাম কমানোর।
তখন সরকার থেকে বলা হয় বিশ্ববাজারে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসলে দেশের জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হবে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে থেকেই রাজস্ব বোর্ডকে আগাম কর ও শুল্ক তুলে নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে রেখেছিলো বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
অবশেষে রোববার রাজস্ব বোর্ড ডিজেলের ওপর দুই শতাংশ আগাম কর তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে সঙ্গে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফলে লিটার প্রতি তেলের দামে কতোটা প্রভাব পড়লো সেটি হিসেব করে দেখার কথা জানালেন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের প্রধান এ বি এম আজাদ।
তবে এই সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে কবে নাগাদ পৌঁছবে, সেটা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে বলেও জানান বিপিসির চেয়ারম্যান।
এদিকে, ডিজেলে আমদানি শুল্কের হার কমানো এবং আগাম কর প্রত্যাহারের ফলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করার কথা জানিয়েছে সরকারও।
সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দাম কতোটা কমানো সম্ভব হবে সেটি দুই একদিনের মধ্যেই জানানো হবে।
তিনি বলেন, করের বিষয়ে কিছু সুবিধা পাওয়া গেছে। সেই সুবিধার কারণে জ্বালানি তেলের দামও সমন্বয় করার চিন্তা করা হচ্ছে। এখনো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আশা করা যাচ্ছে, এখানে একটি পরিবর্তন আনা যাবে। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়ে গেছে বলেও জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় কতটা সমন্বয় করা যাবে, সেটিও একটি বিষয়। তাই কতটুকু সমন্বয় হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো নিতে পারেননি। হয়তো আজকালের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত হবে।
নসরুল হামিদ বলেন, যখন ১১৪ টাকা প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল তখন আট টাকার ওপরে ভর্তুকি ছিলো। এখন হয়তো সেটি আরো বাড়বে। এসব পর্যালোচনা করে তারপরে সিদ্ধান্ত নেব।
আরও পড়ুন: ক্লাসের সময় পরিবর্তন হচ্ছে না: দীপু মনি
উল্লেখ্য, দেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে ৭৪ শতাংশই ব্যবহার হয় ডিজেল। এখন ডিজেলের দাম কমলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে মানুষ। বিশেষ করে পরিবহন ও সেচে কিছুটা স্বস্তি আসবে।
বিপিসি সূত্র জানাচ্ছে, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশই ব্যবহৃত হয় ডিজেল। মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার প্রতিবছর কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
একাত্তর/আরএ
