রোববার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। ৫৭০ সালে ১২ রবিউল
আউয়াল এই দিনে মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে মহানবী হযরত মুহম্মদের জন্ম। এ দিনটি
মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ দিন হিসেবে বিবেচিত। দিনটি উপলক্ষ্যে আলাদা বাণী
দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
এই দিনে আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ। অন্ধকার যুগ থেকে মানবজাতির মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহতায়ালা রাসুলুল্লাহকে প্রেরণ করেন এই ধরাধামে।
পবিত্র কোরআন শরিফে বর্ণিত আছে, মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরবের বাস্তবতায় এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকেন।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবীর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথভাবে সেমিনার,ইসলামী সাংস্কৃতিক ও আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠন বিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ।
আরও পড়ুন: সেবা আর মনোবলের জোরে পক্ষাঘাত নিয়ে ৪৫ বছর
এদিকে, প্রতি বছরের মতো চট্টগ্রামে এ বছরও রোববার সকাল ৯টা থেকে জুলুস শুরু হবে। এটি হবে চট্টগ্রামের ৫০তম জুলুস। এবারের জুলুস শুরুর আগে চট্টগ্রামে আয়োজিত জশনে জুলুসকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস’ হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে জুলুস আয়োজনকারী সংস্থা।
জুলুসের সময় কারও হাতে পতাকা, কারও মাথায় থাকবে বিশেষ টুপি। তাদের বেশিরভাগ পড়ে আসবেন পাঞ্জাবি-পায়জামা। ‘ইয়া নবি সালাম আলাইকা’ স্লোগানে দলবেঁধে কেউ আসবেন পায়ে হেঁটে, আবার কেউ ট্রাকযোগে। সবার গন্তব্য হবে- চট্টড়্রাম নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা।
একাত্তর/আরবিএস
