চলমান ‘লকডাউন’ আরও একসপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ মধ্যরাত থেকে দেশে চলমান বিধিনিষেধ আরও সাত দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলমান ‘লকডাউন’ বা বিধিনিষেধ আগামী ৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
রোববার (৩০ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
গতবার (২৪ মে) ‘লকডাউন’ বৃদ্ধির সময় থেকে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ, ট্রেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। এবারের ‘লকডাউনে’ও চলাচল করবে গণপরিবহন। তবে অর্ধেক আসন খালি রাখতে হবে এসব পরিবহনে।
প্রজ্ঞাপনে অনুসারে হোটেল, রেস্তোরাঁ স্বাস্থ্যবিধি মেনে (দুই আসনে একজন) চালু রাখা যাবে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালতের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।
লকডাউনের মধ্যে যেসব শর্ত বলবৎ থাকছে:
১) দোকানপাট/ শপিং মলসমূহ পূর্বের ন্যায় খোলা থাকলেও সকল দোকানপাট, শপিং মলে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দোকানপাট, শপিং মল তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়া হবে।
২) মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩) জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে।
৪) কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন, জেলা সদর, পৌরসভা এলাকাসমূহে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন/ পৌরসভা মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে সরকার। পরে সিটি করপোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। তবে দূর পাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেয়া হয়।
আরও পড়ুন: সীমান্তবর্তী সাত জেলায় লকডাউনের প্রস্তাব
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শুরু হলে ১৮ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। আর ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন অফিস বন্ধ থাকে। আগামী ১২ জুন পযর্ন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা করা আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সব মিলিয়ে মহামারিতে দেশে মৃত্যু হলো ১২ হাজার ৫৪৯ জনের। মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন সাত লাখ ৯৭ হাজার ৩৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৩ জন।
একাত্তর/আরএ
