নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন নৌ শ্রমিকরা।
ফলে দেশের বিভিন্ন নদী বন্দরে নোঙ্গর করা বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাস ও পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ আছে।
এ নিয়ে একাত্তরের প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন-
বরিশাল: বরিশালে আজ দ্বিতীয় দিনের মতো নৌযান ধর্মঘট চলছে। এতে করে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার লঞ্চের পাশাপাশি পণ্যবাহী কোন জাহাজ চলছে না। ধর্মঘট আহবানকারীরা রয়েছে অনড় অবস্থায়। তবে আজ বিকেল নাগাদ ধর্মঘট নিয়ে সুখবর পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বরিশালের নদী বন্দর কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক।
তিনি বলেন, গেলো দিনের বৈঠক হয়নি। আজ নৌ পরিবহন মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৈঠক হবে। এতে করে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সুরাহা হলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার হবে।
তিনি বলেন, তবে ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের বাড়তি পয়সা গুনে বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
কলাপাড়া: নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী দোতলা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই কারণে বন্ধ রয়েছে পণ্য পরিবহনের জাহাজগুলো। তাই লঞ্চঘাট এখন নীরব। অনেক যাত্রী ধর্মঘটের খবর না পেয়ে ঘাটে এসেছেন। তবে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে গেছে।
এদিকে পায়রা সমুদ্র বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫৪ হাজার মেট্রিকটন কয়লাবাহী জাহাজ আসলেও আজও বন্ধ ছিলো কয়লা খালাস। লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা ধর্মঘটে থাকায় গতকালও বন্ধ ছিলো কয়লা খালাস।
যদিও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়লা খালাস বন্ধ থাকলেও ১৩২০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। কেন্দ্রে কয়লা পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
শ্রমিকরা বলছেন, তাদের ১০ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।

ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে ১০ দফা নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলছে। ফলে সকাল থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও দেশের একমাত্র কৃত্রিম চ্যানেল গাবখান থেকে কার্গো চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে যাত্রীরা সড়কপথে গন্তব্যে চলে গেলেও মালামাল নিয়ে ছোট বড় কার্গো জাহাজ ভিড়ছে না তীরে, যাচ্ছেনা গাবখান চ্যানেল হয়ে ঢাকা, বরিশাল, বরগুনা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা বন্দরে।
নৌযান শ্রমিকরা জানান, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদান ও সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন সারা দেশের নৌযান শ্রমিকরা।
ঝালকাঠির সুন্দরবন ১২ লঞ্চের মাস্টার মো. রুহুল আমিন জানান, সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। দাবিগুলো যতদিন মানা না হবে, ততদিনই নৌযান ধর্মঘট চলবে।
মোংলা বন্দরে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনেও পালন অব্যাহত, বিকেল ৩টায় শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সাথে বৈঠক
মোংলা: সোমবার মোংলা বন্দরে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন অব্যাহত রয়েছে। ফলে বন্দরে হাড়বাড়ীয়ার নোঙ্গরে ও ফেয়ারওয়ের বহি নোঙ্গরে অবস্থানরত সকল বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শাহীন মজিদ বলেন, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও পরিবহণের কাজ বন্ধ থাকলেও বন্দর জেটি, কন্টেইনার ও কার ইয়ার্ডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহআলম বলেন, সোমবার বিকেল তিনটায় ঢাকায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আসা করছি বিকেলের এ বৈঠক ফলপ্রসূ হবে। ফলপ্রসূ হলেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে। আর বৈঠক ফলপ্রসূ না হলে চলমান কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নৌযান শ্রমিকদের দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন নৌ যান শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে আশুগঞ্জ নৌ বন্দরে আটকা পড়েছে অর্ধশতাধিক পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ। কর্মবিরতির কারণে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে বন্ধ রয়েছে পণ্য খালাস। এতে করে স্থবির হয়ে পড়েছে নদী বন্দরের কার্যক্রম।
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ বাহার মাস্টার জানান, নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কর্মস্থলে ও দুর্ঘটনায় মৃত্যু জনিত কারণে ১০ লাখ টাকা মজুরিসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে আমাদের কর্ম বিরতি দ্বিতীয় দিনের মত চলছে। দাবি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলকে আবারো কঠিন সময় দিতে প্রস্তুত সুইসরা
ভোলা: লঞ্চ শ্রমিকদের ১০ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ভোলার সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে আজ সোমবার ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর-বরিশাল ও ঢাকাসহ সকল রুটে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌপথ। তাই লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এই রুটে চলাচালকারী যাত্রীরা। সকালে অসংখ্য যাত্রী দূর দূরান্ত থেকে ভোলার ভেদুরয়া ও ইলিশা লঞ্চ ঘাটে লঞ্চ না পেয়ে ফিরে যায়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী প্রয়োজনের তাগিদে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ফেরি, ট্রলার ও স্প্রিডবোটে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
এদিকে নৌ শ্রমিকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
একাত্তর/এসি
