ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের জন্য বাধা
উল্লেখ করে, এর অপপ্রয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।
আইনটির অপপ্রয়োগ শূন্যে নামিয়ে আনা দরকার বলে স্বীকার করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও আরো দায়িত্বশীল হবার তাগিদ দেন তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ সহ মোট পাঁচটি ধারা বিলুপ্ত করে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পাশ হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
বুধবার মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনায় এই আইনটিকে স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য বাধা বললেন সাংবাদিকরা। তারা বলেন ২৭ শতাংশ ক্ষেত্রে আইনটির অপব্যবহার হচ্ছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘মানবাধিকার সংরক্ষণ ও গণতন্ত্র সম্প্রসারণে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দাবি উঠে আইনটি সংস্কারের।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হলো সাংবাদিকদের বিষয় নিয়ে কথা বলার দিন। আমরা কতটুকু এগিয়েছি তার পর্যালোচনা করার দিন।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জন্য মূল ধারার সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷ মূলধারার সাংবাদিকদের এই আইনের বাইরে রাখা হলে আইনটির অপপ্রয়োগ হবে না।
সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুলিং বন্ধে আইনটি সহায়ক হলেও সাংবাদিকের নিরাপত্তায় আইনটি সংস্কারের উপর জোর দেন বক্তারা।
যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, গণতন্ত্রের মূল শর্ত হচ্ছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকলে গণতন্ত্র সম্প্রসারিত হবে।
তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও বস্তু নিষ্ঠ থাকা সেই সাথে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেন সিনিয়র সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের হয়রানি নয় বরং তাদের সুরক্ষার জন্যই এই আইন এবং আইনটির অপপ্রয়োগ বন্ধের কথা জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশের প্রতিটি মানুষের সুরক্ষার জন্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, তবে অবশ্যই এটির অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একজন সাংবাদিক, গৃহিণীকে, চাকরিজীবীকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। তবে অবশ্যই এই আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
কারণে-অকারণে মামলা ঠুকে দেওয়া, হয়রানি করা অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এই ব্যাপারে আমি একমত। তবে এই আইনও প্রয়োজন।
ডিজিটাল আইন থেকে সাংবাদিকদের বাদ দেয়া সমীচীন হবে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে অনুমতি নিতে হবে, আমি এর বিরুদ্ধে।
হাছান মাহমুদ বলেন, কোনো একটি গোষ্ঠিকে কোনো একটি আইন থেকে বাদ দেওয়া সমীচীন নয়। কিন্তু কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর উপর এই আইনের (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
