ঘূর্ণিঝড় যেভাবে সৃষ্টি হয়

আপডেট : ১০ মে ২০২৩, ০২:৩২ পিএম

ঘূর্ণিঝড় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আর কৌতুহল সেই প্রাচীনকাল থেকে। কারণ, এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, উপকূলে পৌঁছালে বড় দুর্যোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।  

ব্রিটানিয়া ডটকম ওয়েবসাইটের হিসাব বলছে, গড়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮০টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। যার বেশিরভাগ সাগরেই মিলিয়ে যায়। অল্প কিছু ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানে। 

ঘূর্ণিঝড়ের গঠন, চরিত্র, শক্তি, চাপসহ নানা বিষয় এর তীব্রতা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে এবং সেসব হিসাব করেই জানা যায়, সামুদ্রিক ঝড়ের কোনটি উপকূলের দিকে ধেয়ে আসবে। 

সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাই হলো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির মূল নিয়ামক। ১০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলেই ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে।

তবে এখানে বলে রাখা ভালো, শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠই নয়, তাপমাত্রা পানির ৫০ মিটার নিচ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলে বাষ্প তৈরির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।

image


এই তাপমাত্রায় সমুদ্রের পানি বাষ্প হতে থাকে। এসব বাষ্প ক্রমাগত উপরে উঠতে শুরু করে। সেই সঙ্গে তৈরি করতে থাকতে স্যাঁতস্যাঁতে বাতাস। এই দুইয়ের যোগে তৈরি হয় মেঘ।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যখন বাষ্প উপরে উঠতে শুরু করে তখন বায়ুর চাপ ব্যাপকভাবে কমে যায়। আর এটিকেই নিম্নচাপ বলা হয়। শুরু হয় ঘূর্ণিঝড়ের প্রক্রিয়া।

সমুদ্রপৃষ্ঠের নিম্নচাপ এলাকা বায়ূশূণ্য হয়ে পড়লে, আশপাশ থেকে বায়ু সেই শূণ্যতা পূরণের জন্য ছুটে যায়। তখনই তৈরি হয় একটি ঘূর্ণাবর্ত। 

সব ঘূর্ণাবর্তের একটি কেন্দ্র তৈরি হয়, যেটিকে ঘূর্ণিঝড়ের চোখ বলে। এই ঘূর্ণি উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরতে থাকে।

চারদিকের বাতাসে যত মেঘ, যত আর্দ্রতা আছে সব এসে, পড়িমরি করে জড়ো হতে শুরু করে আর তৈরি হতে থাকে ভয়ংকর এক ঝড়- ঘূর্ণিঝড়। 

image


পানির তাপমাত্রা যত বেশি হয় এবং এই নিম্নচাপ এলাকায় চাপ যত কম থাকে, ততই সম্ভাবনা বাড়তে থাকে আরো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির।

ট্রপিক্যাল অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাস সাধারণত একশ’ থেকে এক হাজার কিলোমিটার হয়ে থাকে। যা ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট আকারের হয়ে থাকে।। 

আর নন-ট্রপিক্যাল অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাস হয়ে থাকে এক হাজার থেকে চার হাজার কিলোমিটার হয়ে থাকে। এটি শুধু অঙ্কে আনা গেলেও ব্যাপকতা বোঝা কঠিন।

ঘূর্ণিঝড়ের এই ব্যাসের মধ্যে ও আশপাশে থাকা এলাকা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে গোলোযোগের সৃষ্টি করে। ঘূর্ণাবর্ত ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ছুটতে শুরু করে। এ কারণেই একে ঘূর্ণিঝড় বলে।

ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে যে বৃত্তাকার বলয় দেখা যায়, সেটিকে বলা হয় ‘চোখ’ বা আই। এর চারপাশে যে খুব শক্তিশালী বাতাসের বলয় তাকে বলা হয় ‘আই-ওয়াল’। 

তবে এই চোখ উপকূলের যে অংশ দিয়ে অতিক্রম করে, তাদেরই মুখোমুখি হতে হয় দুর্যোগের। কারণ, সেই এলাকাকে দু’বার করে শক্তিশালী আই-ওয়ালের মুখোমুখি হতে হয়। 

আই-ওয়াল বলয়ের পাশে সর্পিলাকার বিশাল যে কুণ্ডলী থাকে, সেগুলোকে বলে রেইনব্যান্ডস বা বৃষ্টির কুণ্ডলী। যা ঘূর্ণিঝড়ের সময় বৃষ্টির সবচেয়ে বড় কারণ। 

অনেকের ধারণা ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে ভয়ংকর অবস্থা থাকে, আসলে সেটি ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে শান্ত অংশ। যেখানে কোনো ঝড়ঝঞ্ঝার চিহ্নই থাকে না। 

image


বাংলাদেশের বেশিরভাগ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয় বঙ্গোপসাগরের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি। কোনটি শেষ পর্যন্ত উপকূলে আসবে সেটি নির্ভর করে ঘূর্ণির চরিত্রের উপর।

উৎপত্তিগতভাবে সব ঘূর্ণিঝড় একই রকমের হলেও পৃথিবীর একেক অঞ্চলের মানুষ এদেরকে  একেক নামে ডাকে। আমাদের ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এদের নাম সাইক্লোন।

আবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় হারিকেন। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয়ে থাকে ‘টাইফুন’।

আরও পড়ুন: রোববার উপকূলে আঘাত হানতে পারে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়

ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলো সাধারণত আটলান্টিক বেসিনের হারিকেন বা প্যাসিফিক বেসিনের টাইফুনগুলোর চেয়ে কিছুটা দুর্বল। 

কিন্তু, বাংলাদেশের সমুদ্র তীরের আকৃতি ফানেল বা চোঙের মতো হওয়ায় প্রায়ই বঙ্গোপসাগরের তৈরি ঘূর্ণিঝড়গুলোর শিকার হয় বাংলাদেশ এবং ভারতের উপকূল।


একাত্তর/আরবিএস  

দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করে বলেছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অবদান আগামী দিনগুলোতে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর হবে। 
টানা দুই দিন দেশে চার বার ভূমিকম্পে মানুষ যখন আতঙ্কিত, তখনই এলো আরেক প্রাকৃতিক দুর্যোগর খবর। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে।
চার জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য এসব অঞ্চলের নদীবন্দরেও সতর্কতা দেখাতে বলা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে ২৮ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।  বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর চারটার দিকে বিএসএফের...
ঘোষিত হলো ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ২৮টি ক্যাটেগরিতে মোট ৩২ জন বিশিষ্ট শিল্পী ও কলাকুশলীকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের...
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই যুক্তিতর্ক...
হজযাত্রীদের লাগেজ কাটার ঘটনাটি বাংলাদেশ অংশে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে যে প্রচার...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর