স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতার পরও দেশে গণতান্ত্রিক ধারবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের পকিল্পিত পরিকল্পনার কারণেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ মে) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মুসলিম ঐতিহ্যের হারানো সম্মান ফিরে পেতে সব ভেদাভেদ ভুলে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী মুসলমানরা কেন পিছিয়ে পড়লো, তা বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শকে সামনে রেখে সবসময়ই ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী বাজেট অধিবেশনে ন্যানো টেকনোলজি নীতিমালা পাস হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ইনকিউবেশন সেন্টার এবং হাই-টেক পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। হাইটেক পার্কে ইতিমধ্যে বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে।
ন্যানো টেকনোলজি নীতিমালা আগামী বাজেট অধিবেশনে পাস হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইস যেন রপ্তানিতে এক নম্বর হয় সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইইউটির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সাফল্যের অংশীদার এবং এ প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক দেশ হতে পেরে গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা হলো শ্রেষ্ঠত্ব লাভের জন্য একটি আজীবন সাধনা। আমি জেনে আনন্দিত যে, মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখে আইইউটি ইসলামী বিশ্বের গুণগত পরিবর্তনে সর্বদা অবদান রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আইইউটির গ্র্যাজুয়েটরা প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ এবং ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বে তাদের অবদান রেখে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গর্বিত স্বাগতিক দেশ এবং এর পরিচালনায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে আসছে। ভবিষ্যতেও আমরা এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: ভোটারদের বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা: সিইসি
সমাবর্তনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সফররত অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) মহাসচিব ও আইইউটির চ্যান্সেলর হিসেইন ব্রাহিম ত্বহা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
একাত্তর/এসি
