নির্বাচনের পথেই রয়েছে বাংলাদেশ। তবে নির্বাচনের আগে ও পরে জনসম্পৃক্ততার ওপর নির্ভর করছে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে নির্বাচন। এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, বিএনপি নয়, জনগণ অংশ না নিলে নির্বাচন সফল হবে না। তাই ভয়হীন ভোটের পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন আলোচকরা।
শনিবার বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু।
নির্বাচনের বাকি মাত্র দেড় মাস। বড় দল আওয়ামী লীগসহ ছোট অনেক দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও এখনও নির্বাচনের মাঠে নেই বিএনপিসহ বেশ কিছু দল। দেশে সরকার পতনের আন্দোলন চললেও সেখানে সংঘাত ছাড়া জনসম্পৃক্ততার অভাব রয়েছে, বলছেন বিশিষ্টজনরা।
দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ইমেরিটাস সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, এটা খুব মসৃণ নির্বাচন হচ্ছে না। এখন আমরা জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি না, আমরা দলের অংশগ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। কিন্তু আমরাই আবার বলি, দলের চেয়ে দেশ বড়। দেশের মালিক হলো জনগণ, এখন জনগণের অংশগ্রহণটা আমাদের জন্য সন্তোষজনক হবে কিনা?
সংস্কৃতিজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়াটা নির্বাচন কমিশনের জন্য খুবই জরুরি এবং সরকারকে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করা দরকার।
আলোচকরা জানান, রাজনীতি হয়ে গেছে ব্যবসাকেন্দ্রিক। ভোটের লড়াইয়ে ত্যাগী নেতাদের জায়গা না দিলে জনমনে শঙ্কা থেকেই যাবে। সরকারকেও শুদ্ধি অভিযানে নামতে হবে, বলেন তারা।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ও নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অনেকগুলো স্বার্থান্বেষী গ্রুপের দ্বারা আওয়ামী লীগ দূষিত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ বা দেশের স্বার্থ দেখে না, তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখে। তাদের থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে।
বিএনপির বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপিকে নিজ দলের কথা ভাবতে দিন। আমার মনে হয়, লন্ডনে বসে দল পরিচালনা করা মানে দলকে ধ্বংস করা।
আলোচকরা জানান, বিএনপি নয়, জনগণ অংশ না নিলে নির্বাচন সফল হবে না। তাই ভয়হীন ভোটের পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন তারা।
গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, বিএনপি কৌশল হিসেবে নির্বাচন বর্জনের মাধ্যমে নির্বাচনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপির পক্ষে কোনো গণজোয়ার কিংবা গণসম্পৃক্ততা তৈরি হয়নি। একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে এমন আশা রেখে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ।
৩০০ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা দিয়ে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি গঠন
৯০ দেশকে নির্বাচনের প্রস্তুতি জানালো সরকার