যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে সে দেশের বেসরকারি খাত অনেক সময় পাত্তাই দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সস্তায় পণ্য পাওয়া যায় বলেই এখান থেকে কেনে সেদেশের ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের ডায়নামিক বেসরকারি খাতের ওপর আমার বিশ্বাস আছে। আমি এইটাও বিশ্বাস করি আমেরিকার সরকার বললেও জিনিস (পণ্য রপ্তানি) বন্ধ হবে না।
‘কারণ, ওখানে প্রাইভেট সেক্টর এগুলো কেনে। তারা সরকারকে অনেক সময় পাত্তাই দেয় না। তারা কেনে কারণ, সস্তায় জিনিসটা পায়,’ বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশে যে পরিমাণ সস্তায় পণ্য কেনা যায় তা ‘অন্য জায়গায় অত সস্তায় কেনা যায় না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্য বিষয়ক মিনিস্টার সেলিম রেজার লেখা একটি চিঠি ২০ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
যেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি যে স্মারকটি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ তার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে এই নীতি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ওপর আরোপের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ নীতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, যদিও আমরা এলডিসিভুক্ত, তবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে অন্যতম আর্দ্শ দেশ।
‘ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাকের বড় ক্রেতা। এটুকু বলে রাখতে চাই, এগুলো সব ব্যক্তি মালিকানায়। আর যারা কেনে তারাও ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুতরাং তারা সরকারের কারণে পণ্য কেনে না। তারা কেনে, কারণ এটা সস্তায় পায়, ভালো মানের পণ্য পায়, সময়মতো পণ্য সরবরাহ হয়।
বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক দিয়ে রপ্তানি হয় বলে এদিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
আর এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর দেয়া কোটা সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি।
এরপরও পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা খুব ডায়নামিক।
‘এক সময় ভয় ছিলো, আমেরিকা বললো, কোটা সিস্টেম উঠিয়ে দেবে। আর যাই কোথায়! মিডিয়ায় এই নিয়ে, না জানি কী যেন ভরাডুবি হয়!
‘কিন্তু পরে দেখা যায় যে, আমাদের ব্যবসায়ীরা সো স্মার্ট। কোটা সিস্টেম উঠিয়ে দেয়ার পরে তাদের রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ায়ে দিলো।’
চায়নার ওপর নানানরকম নিষেধাজ্ঞা চাপালে সে দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পণ্য কেনার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেখেন চায়নার ওপর কতরকম নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ব্যবয়সীরা ঠিকই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তাই ওগুলো নিয়ে অত দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নাই।
‘বরং আমরা আশা করবো, আমেরিকা আমাদের সকল শ্রমিক শ্রেণীর উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।’
বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার দেয়ার পরিস্থিতি নেই: সচিব
‘সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে’ মোমেন-পিটার হাস বৈঠক