বাংলাদেশকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেছেন, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কিছু দেখছি না।
বাণিজ্য সচিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে শ্রম অধিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত স্মারকের কোনো সম্পর্ক নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রম অধিকার নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের দূতাবাসের দেয়া চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তপন কান্তি ঘোষ।
তিনি বলেন, আমেরিকা থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের সঙ্গে এই চিঠির সম্পর্ক নেই। এ চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো চাপ অনুভব করছে না।
‘আমরা প্রতিনিয়ত এসব নিয়ে কাজ করছি। সামনে দেশের শ্রমিকদের অধিকার কীভাবে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে জোর দিচ্ছি।’
তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ওয়াশিংটন থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কিছু অবজারভেশনের কথা রয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও আইএলওর বাংলাদেশের শ্রম আইন নিয়ে কিছু কথা আছে।
‘আমরা সেটা উন্নত করার চেষ্টা করছি। আমি মনে করি, এ চিঠি নতুন কিছু না। আমেরিকার এ নীতি সব দেশের জন্যই।’
ইতোমধ্যে চারবার শ্রম আইন পরিবর্তন করা হয়েছে এবং আইএলওসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও দেশের সাথে আলোচনা করে শ্রম পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান সচিব।
যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসের বাণিজ্য বিষয়ক মিনিস্টার সেলিম রেজার লেখা একটি চিঠি ২০ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
যেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি যে স্মারকটি ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ তার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে এই নীতি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ওপর আরোপের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক দিয়ে রপ্তানি হয় বলে জানান বাণিজ্য সচিব।
তিনি বলেন, কাজেই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। বরং অনেক দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য করে, যেখানে গণতন্ত্র নেই, একদলীয় শাসন এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নেই।
‘বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা অনেক উন্মুক্ত, এখানে গণতন্ত্রের চর্চা আছে। সেখানে বাণিজ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আছে বলে মনে করি না,’ বলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।
তিনদিনের ব্যবধানে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম