বিএনপির নাশকতায় আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। নাশকতা কারীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপির নাশকতার কারণে দেশে নির্বাচন বন্ধ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করবে।
গত ১৫ নভেম্বর ভোটের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট হবে ৭ জানুয়ারি। দেশের ২৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নিলেও বিএনপি তফসিল বর্জন করে নির্বাচন থেকে দুরে রয়েছে।
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি। তাদের এই কর্মসূচি সহিংস রূপ ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্নস্থানে পোড়ানো হচ্ছে যানবাহন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসতে হলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে। আর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে তারা কোনো নাশকতা করবেন না আশা করি।
তিনি বলেন, দেশে নির্বাচনের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। সেখানে নাশকতা কেউ চায় না। যারা এখন নাশকতা করছে, এটা তাদের অভ্যাস।
বিনা পরোয়ানায় কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না
বিনা পরোয়ানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে দলটির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে তা উড়িয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, এ বছরের ২৩ জুলাই থেকে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৯৫৬ জন আটক হয়েছে। প্রতিদিন জামিনে ছাড়া পাচ্ছেন একই সংখ্যক।
‘আমি মনে করি, যারা অপরাধ করেছেন, তারাই গ্রেফতার হয়েছেন। বিনা পরোয়ানায় বা বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ওইদিনের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলাও হয়।
সেদিনের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ঢুকে গিয়েছিল। যা আপনাদের ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। সেগুলো তো এক-দুজন করেনি, কয়েক হাজার লোক সেখানে ছিলো।
‘তারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল, পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে গিয়েছিল। তারা পিটিয়ে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে।’
তিনি বলেন, তাদের হামলায় সাংবাদিকরা পুলিশ হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানেও তাদের পেটানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাদের গ্রেফতার করেছে, তারা অগ্নিসংযোগ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে কেউ লাইসেন্স করা অস্ত্রের অপব্যবহার করলে জেলা প্রশাসক তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে বলেও এক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।
উন্মুক্ত স্থানে থার্টি ফার্স্টের আয়োজন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রায় সব ওসি বদলির মধ্যে পড়ে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী