শপথ নিতে যাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বলেছেন, যে দায়িত্ব তাদের ওপর প্রধানমন্ত্রী দেবেন তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই একে একে বঙ্গভবনে ঢুকতে শুরু করে নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়া সদস্যরা। নতুন মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মত অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন সাতজন মন্ত্রী ও সাতজন প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম জানান।
নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে তারাই হবে দেশের নতুন সরকার। শপথ নেওয়া পর্যন্ত আগের মন্ত্রিসভা বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে আগের মন্ত্রিসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
বঙ্গভবনে উপস্থিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা কথা বলেন একাত্তরের সাথে।
তাদের মধ্যে বিদায়ী সরকারের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, আমাদের দিক থেকে প্রত্যাশার কোনো বিষয় নেই। প্রধানমন্ত্রী আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে যে দায়িত্বই দিবেন সেটিই পালন করবো। তিনি আমার নেতা।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া আব্দুর রহমান বলেন, কী দায়িত্ব পাবো সে বিষয়ে ধারণা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্বই দেবেন তা পালন করবো।
বিদায়ী সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমদু চৌধুরী বলেন, আমরা যে যেখানেই দায়িত্ব পাই না কেনো, তা যেনো ঠিকভাবে পালন করতে পারি সেটাই প্রত্যাশা।
নতুনদের মধ্যে সিমিন হোসেন রিমি বলেন, আমরা দারিদ্রমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত একটা দেশ দেখতে চাই। আমার ওপর যে দায়িত্ব আরোপ করা হবে, তা আমি ঠিকভাবে পালন করবো।
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, জ্বালানিকে স্থীতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে দাম রাখাই আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আগামী দিনগুলোতে আমরা আরও ভালো জায়গায় যাবো বলে আশা রাখি।
নতুন মুখ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে আমি যে সামন্ত লাল ছিলাম, মন্ত্রী হলেও আমি সেই সামন্ত লালই থাকবো। প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, আমি তা পূরণ করার চেষ্টা করবো।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ডাক পেয়েছেন বিদায়ী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিদায়ী আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ, বিদায়ী খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, সাবেক মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ময়মনসিংহের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম, বিদায়ী শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিদায়ী জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
টেকনোক্রাট (সংসদ সদস্য নন এমন) মন্ত্রী হিসেবে এবারও থাকছেন স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এই কোটায় নতুন মুখ শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সামন্ত লাল সেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিদায়ী সরকারের নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমদু চৌধুরী, সিমিন হোসেন রিমি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, মুহিবুর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রুমানা আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরী, আহসানুল ইসলাম টিটু।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় তিন জন উপমন্ত্রী থাকলেও এবার কাউকে উপমন্ত্রী রাখা হয়নি।
মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেন যারা
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যারা
যেসব আলোচনার মধ্যে বাদ পড়লেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা
নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি