হবিগঞ্জের রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের দুটি কূপ থেকে আরো ১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রের ৯ নম্বর কূপের একটি পাইপ লাইন ও দুই নম্বর কূপের সংস্কার করে এই গ্যাস মিলেছে। তবে এ কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগায় রাষ্ট্রের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের।
গ্যাসের চাহিদা পূরণে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। সেই কাজ দেখতে সম্প্রতি সিলেট এলাকা পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৯ নম্বর কূপের সাথে প্রসেস প্লান্টের পাইপ লাইন নষ্ট থাকার কারণ দেখিয়ে প্রায় পাঁচ বছর এই কূপটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এখন সেই কূপ থেকে আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের কূপ-২ ও কূপ-৯ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এটি প্রতিদিন ১৮ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করবে। এখন গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট। কূপ-২ থেকে গ্যাস উত্তোলন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও কূপের ওয়ার্ক-ওভারের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, কূপ থেকে আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়, যা খুবই বিরল। তবে কূপ-৯ নতুন হলেও পাইপলাইনের অভাবে গ্যাস উত্তোলন করা যাচ্ছে না। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে ১১টি কূপ রয়েছে যার মধ্যে নয়টি কূপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সাতটি কূপ থেকে ৬৬.৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সংস্কার শেষে দুই নম্বর কূপ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। কাজগুলো সময়মতো না হওয়ায় রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হলে বলে অভিযোগ করেছেন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তবে কাজের ধীর গতির জন্য পেট্রোবাংলাকে দায়ী করেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে তাগিদ দেয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট দ্রুত মোকাবিলায় দেশের সব কোম্পানির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান শেভরনও বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের নতুন এলাকায় চলছে গ্যাস অনুসন্ধান।
আমদানির খবরে পাইকারিতে কমছে আলুর দাম