মহান স্বাধীনতা দিবসে ‘শোক থেকে শক্তি: অদম্য পদযাত্রা’ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের শেকড় কতটা শক্ত তা তরুণ প্রজন্মকে বোঝাতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও অভিযাত্রী যৌথভাবে এ পদযাত্রার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে অদম্য পদযাত্রা, যা শেষ হবে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে।
শহীদ মিনার থেকে হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সেখান থেকে টিএসসি হয়ে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে শিখা চিরন্তনের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন পদযাত্রী দল।
এরপর মধুর ক্যান্টিনের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে স্মরণ করা হয় উত্তাল দিনগুলোকে। সেখান থেকে পদযাত্রী দল অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে কিছুটা সময় নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের পাশ দিয়ে নীলক্ষেত পৌঁছয়।
তারপর সিটি কলেজ, পিলখানা গেট, সাত মসজিদ সড়ক হয়ে মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজে যান। এই কলেজেই একাত্তরে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর গোষ্ঠী পাশবিক নির্যাতনের ভয়ংকর ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিলো। অমানুষিক নির্যাতন শেষে বুদ্ধিজীবীদের এখান থেকে নেয়া হতো রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে।
পদযাত্রী দল শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে যান রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে। সেখানে নীরবে খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
সেখান থেকে তারা হাঁটতে হাঁটতে যাবেন বসিলার উদ্দেশে। বসিলা ব্রিজের নিচে থেকে ট্রলারে করে পদযাত্রী দল তুরাগ, বুড়িগঙ্গা হয়ে ৩২ কিলোমিটার ধলেশ্বরী পাড়ি দিয়ে যাবে নয়ারহাট।
গণহত্যা শুরুর পর একাত্তরের সেই দিনগুলোতে শরণার্থীরা এভাবেই নৌকায় চেপে পাড়ি দিয়েছিলেন নিরুদ্দেশ গৃহহীন পথ। আবার শত্রুসেনা নিধনে গেরিলা যোদ্ধারাও রাতের অন্ধকারে রাইফেল কাঁধে পাড়ি দিয়েছেন এ ধরনের নৌ পথ।
নৌকা থেকে আবার ঘাটে নেমে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পথ ধরবে পদযাত্রী দলের সদস্যরা। কিছুটা পথ অতিক্রম করে তারা পৌঁছে যাবেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
২৬ মার্চ: কালরাতের রক্তগঙ্গা পেরিয়ে জন্ম স্বাধীন দেশের