ধর্ম ব্যবহার করে ভোটে জেতা যায় না, বিশ্বে এ বার্তাই দিয়েছে ভারতের নির্বাচন। এডিটরস গিল্ড আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রের ওপর জনগণের আস্থা আরও এক ধাপ বাড়িয়েছে লোকসভার ভোট। তবে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বাড়াতে দু’দেশের মানুষের পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
শনিবার সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘ভারতের নির্বাচন ও ভূরাজনীতি’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় এ তাগাদা দেন বক্তারা।
তারা বলেন, ভারত এমন এক রাষ্ট্র যার ভেতরে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত। বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচন শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তাই নানান বৈরী পরিবেশের মধ্যেও ভোটে রায় দিয়েছে সে দেশের মানুষ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ বিষয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার পরিবর্তনের একটাই পথ; তা হলো নির্বাচন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী যারা গণতন্ত্রের পক্ষে- যারা গণতন্ত্র দেখতে চায়, ভারতের নির্বাচন তাদের জন্য আশার বানী।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী মনে করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি ভারতের মানুষের যে আস্থা আছে- তা পূরণ হয়েছে। জনগণের মধ্যে আস্থা না আসলে দুর্বলতা থেকেই যায়।
ধর্মের কার্ড ব্যবহার করে কোনোভাবেই ভোটে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। বিশ্বের কাছে এই বার্তাই দিয়েছে এবারের লোকসভা নির্বাচন।
আইনজীবী ও গবেষক ড. ফারজানা মাহমুদ বলেন, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি কোনো সুফল বয়ে আনে না। এ ধরনের দলগুলোর কাছ থেকে আমাদের অন্য দলগুলোর দূরে থাকা মঙ্গলজনক।
‘কেউ দিবে তা না ভেবে, চাওয়ার মতো যোগ্যতাও আমাদের রাখতে হবে।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, সবার স্বার্থ রেখে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা করতে পারলে তাই মঙ্গলজনক।
এবারে ভারতে হয়তো দুর্বল সরকার হবে। তারপরও বাংলাদেশি হিসেবে বড় প্রত্যাশা থাকবে সীমান্তের হত্যা বন্ধ আর তিস্তার পানি ন্যায্য বণ্টন।
রাজনীতি বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে বলেন, সবকিছু যোগ করলেও আমরা যা তাদের কাছ থেকে পাই- সেটা কিছুই না।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রেখেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, মমতার সব কথা কী সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট শুনছে? সব দাবি কী পূরণ হচ্ছে? তার পানির কথাই কেনো শুধু শুনবে তাহলে।
সবশেষ এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক এবং গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, সরকার সব কিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে একটা ভালো কিছু উপহার দিবে আমরা সে প্রত্যাশা রাখি। বিজেপি যদি সত্যি সত্যি জনগণের জন্য কাজ করেন, তার সুফল এ অঞ্চলের সবাই পাবে।
নাইডু-নীতীশের দলকে ক’টি মন্ত্রণালয় দিচ্ছেন মোদী?