কোটাবিরোধী আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ‘পানি ঘোলা’ করার দৌড়ঝাঁপ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি।
কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের বিষয়ে পানি ঘোলা করার মানুষের অভাব হয় না। অনেকেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে।আশা করি শিক্ষার্থীরা এটি বুঝবে এবং সড়ক থেকে সরে যাবেন।
কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমর্থনের পরই এ প্রতিক্রিয়া জানালেন আসাদুজ্জামান কামাল।
এদিকে উচ্চ আদালতের আদেশের পর কোটাবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নেই মন্তব্য করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ বলা হয়েছে, সড়ক অবরোধ করে ভোগান্তি সৃষ্টি করলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষিত ও মেধাবীরা কেনো রাষ্ট্রের বিপক্ষে যাবে এ প্রশ্নও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, কেউ বেআইনি অবস্থানে গেলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়; যখন ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করে।
কোটাবিরোধী আন্দোলনের ‘সবকিছু’ পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কামাল বলেন, আদালতে মামলা যখন চলছে, তখন আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা শিক্ষার্থীদের তা ভাবতে হবে। ডিএমপিও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এখন মনে হয়, কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান করার প্রয়োজন নেই। আদালতেই সব সমাধান হয়ে যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে শিক্ষার্থীরা যেনো আদালতেই সব উপস্থাপন করে। সড়কে অবস্থান করে জন ভোগান্তি না বাড়ানোই ভাল।
কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্র জারি করে সরকার। গত ৫ জুন সেই পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি চাকরিতে আগের কোটা পদ্ধতি ফিরে আসে।
এরপরই হাইকোর্টের আদেশ বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ, দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করছেন তারা। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এরি মধ্যে বুধবার হাইকোর্টের আদেশে এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে আপিল বিভাগ। এই সময়ে সরকারি চাকরিতে কোটা থাকবে না। কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদেরও ক্লাসে ফিরতে বলেছেন প্রধান বিচারপতি।
কিন্তু এসবের কিছুই মানতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তারা আগের মতোই অবরোধ-কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা এখন নতুন দাবি তুলেছেন যে, আদালত নয়, সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে।
কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সমর্থন
রাস্তা বন্ধ করলেই ব্যবস্থা: পুলিশ
আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা: প্রধান বিচারপতি
আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ থেকে বিরত থাকার আহবান ছাত্রলীগের