প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তা প্রকল্প ভারতের করা উচিত।
রোববার গণভবনে চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিস্তা প্রজেক্টটা আমাদের করতে হবে। চীনও আমাদের কাছে কিছু অফার দিয়েছিলো। তাদের ফিজিলিবিটি স্টাডি করেছে। ইন্ডিয়াও আমাদের কাছে অফার দিয়েছে। ইন্ডিয়াও ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। এটা করার পরে, যেটা আমাদের জন্য যুক্তিযুক্ত হবে, আমরা সেটা নেব।
শেখ হাসিনা বলেন, চীন তো রেডি, কিন্তু আমি চাচ্ছি যে এটা ইন্ডিয়া করে দিক, এই প্রজেক্টটা করলে এই প্রজেক্টটার জন্য যা দরকার, ইন্ডিয়া দিতেই থাকবে। ঠিক আছে? যা সাফ সাফ কথা, রাখ ঢাকা নাই।
ভারতের প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ তিস্তার পানিটা ইন্ডিয়াই আটকে রেখেছে, কাজেই তাদের কাছ থেকে আমাদের যদি আদায় করতে হয়, প্রজেক্টের কাজ তাদেরই করা উচিত। তারা প্রজেক্ট করে আমাদের যা প্রয়োজন তারা দেবে। এটা তো একটা ডিপ্লোমেসি। এখানে আর কোনো দ্বিধা থাকার তো কথা নয়।
তিস্তা প্রকল্প বহু যুগের প্রকল্প জানিয়ে তিনি বলেন, আমার যতটুকু মনে পড়ে, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে (১৯৫৪ সালে) ছিলো, আওয়ামী লীগের ইশতেহারে অনেকবার ছিলো।
২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণটন চুক্তির বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়েছিলো।
মনমোহন সিংয়ের সফরেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।
নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার মত বদলায়নি।
গত জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তা প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন নরেন্দ্র মোদী। এর অংশ হিসাবে ভারতের একটি কারিগরি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলেও জানান তিনি।
নতুন করে গঙ্গা-তিস্তার আলোচনা নিয়ে আবারও আপত্তি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে ‘পাশ কাটিয়ে’ ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন ও তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপ্রত্যাশিত’।
এর আগে চীনও এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলো। তারাও বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কাজ করবে।
তিনি বলেন, আমাদের দক্ষিণ অঞ্চল সব থেকে বেশি অবহেলিত, পদ্মার ওপার, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন কাজের জন্য আমি চীনকে বলেছি। সব থেকে অবহেলিত এবং ওখানকার কাজগুলো করা খুব কঠিন। পিরোজপুর যাওয়ার একটা নদী পেকুটিয়া, এটা দীর্ঘ দিনের একটা আকাঙ্ক্ষা, ওটাও চীন করে দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটার জন্য কোনো পয়সা লাগবে না, তারা করে দেবে। কাজেই আমি কাজ ভাগ করে দিয়েছি, কোথাকার কাজ কে করবে, কঠিন কাজ সহজে করতে পারব। সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে বৈরিতা নয়।
তথ্য জোগাড় আর ফাইল চুরি এক নয়: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষকরা টায়ার্ড হোক, তখন বলবো: প্রধানমন্ত্রী