টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকার পর দেশে সীমিত আকারে চালু হয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। তবে শুরুতে সবাই ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। জরুরি সেবা, আর্থিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ কিছু খাতকে প্রাধান্য দিয়ে ইন্টারনেট চালু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ চালু হতে থাকে। তবে তা খুবই স্বল্প পরিসরে। পরবর্তীতে এলাকার পরিধি বাড়ানো হবে এবং দ্রুত সার্বিকভাবে পুরো ইন্টারনেট সেবা চালু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, গত ১৭ জুলাই রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ ছিল। পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ বন্ধ হয় ব্রডব্যান্ড সংযোগও। ফলে পুরো দেশ সব ধরনের ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মহাখালী ডাটা সেন্টারে দুর্বৃত্তদের আগুনের ঘটনায় ইন্টারনেট সংযোগে এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
রাজধানীর বিটিআরসি ভবনে মঙ্গলবার বিকেলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ চালু হবে। প্রাথমিকভাবে ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় ও কূটনৈতিক এলাকায় ইন্টারনেট চালু হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে, প্রবাসীকল্যাণ সেবা এবং এয়ারলাইনস সেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থাকা এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যাবে।
এরপর এলাকার পরিধি বাড়ানো হবে এবং খুব দ্রুত সার্বিকভাবে পুরো ইন্টারনেট সেবা চালু হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়টি এখনও আমি নিশ্চিত বলতে পারছি না যে কতটুকু আমরা আসলে অ্যালাউ (অনুমোদন) করতে পারব। এ পর্যায়ে ইন্টারনেটকে আগে পুনঃস্থাপন করি। আগামীকাল (আজ বুধবার) বলি, পরের অবস্থান কী।’
কারও যদি অগ্রাধিকার এলাকার প্রস্তাব থাকে, তাহলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) জানালে এবং সেটা যৌক্তিক মনে হলে ইন্টারনেট দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ।
মোবাইল ইন্টারনেট এখনো বন্ধ রয়েছে। এটা চালুর বিষয়েও পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হলে বুধবার (১৭ জুলাই) রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট এবং বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের কারণ হিসেবে তখন বলেছিলেন, জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট