কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কাজ শুরু করেছেন তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। রোববার তারা রংপুরে যাবেন।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা তদন্তের কাজ শুরু করে দিয়েছি। তদন্ত কমিশনের পরিধির আওতাভুক্ত সব হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপারে বিশদ তদন্ত করব। এই তদন্তে প্রাপ্ত সব তথ্য-উপাত্তের ব্যাপারে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার সাহায্য নিয়ে কে বা কারা এই কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী, সেটি নিরূপণ করবো।
‘আমরা ৪ আগস্ট রংপুরে যাবো এবং ৮ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে সার্কিট হাউজে অবস্থান করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবো। এসময় আমরা ঘটনাস্থল সমূহ পরিদর্শন করবো এবং সাক্ষীগণের সাক্ষ্য গ্রহণ করবো।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ১৬ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের ঘটনায় মৃত্যু, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তে হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিশন তদন্তকাজ শেষ করে আগামী ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
সেদিনই তদন্ত কমিশনের সভাপতি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান বলেছেন, নতুন কমিশন গঠনের পর নিজেরা বসেছিলাম। সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে তদন্তকাজ পরিচালনার জন্য অফিস থাকতে হবে, যেটি এর আগে বলেছিলাম। অফিস নির্ধারণ করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের মেডিয়েশন সেন্টার। এই অফিস যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এখানে সবাই চিঠি–তথ্যাদি পাঠাতে পারবেন।
তিনি জানান, যোগাযোগের জন্য একটি ই–মেইলও ([email protected]) খোলা হয়েছে। এই ঠিকানায় দেশের যেকোনো নাগরিকের কাছে কোনো তথ্য–উপাত্ত থাকলে, তারা যদি নাম গোপন করে চান, তথ্য–উপাত্ত পাঠাতে পারবেন।
খোন্দকার দিলীরুজ্জামান বৃহস্পতিবার বলেন, রংপুরে গিয়ে সশরীর ঘটনা সংঘটনের স্থান পরিদর্শন করবো। প্রয়োজনীয় সাক্ষী যারা ওখানে আছেন, সাক্ষ্য গ্রহণ করবো।
রংপুর সার্কিট হাউসে ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ বিষয়ে একটি সময়সূচি তুলে ধরেন বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান।
জানান, নিহত মো. আবু সাঈদের বিষয়ে ৫ আগস্ট, নিহত সাজ্জাদ হোসেন, মোসলেম উদ্দীন মিলন ও মো. মানিক মিয়ার বিষয়ে ৬ আগস্ট এবং নিহত মো. মেরাজুল ইসলাম ও মো. আব্দুল্লাহ আল তাহের বিষয়ে ৭ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
শুরুতেই রংপুর যাচ্ছে তদন্ত কমিশন