অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ড. ইউনূসকে শপথ পড়ান। শপথের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রথমে ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টার শপথ পড়ান। পরে গোপনীয়তার শপথ পড়ান। পরে তিনি শপথের নথিতে সই করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
কয়েকশ’ অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মধ্যে গত ৫ আগস্ট সরকার প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ওইদিনই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান অন্তর্বর্তী সরকারের কথা জানান। রাজনৈতিক দলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।
ওইদিন রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও বৈঠক হয় তিনবাহিনীর প্রধান এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে। পরে রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতিও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা বলেন।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের নাম ঘোষণা করা হয়।

পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে ঢাকায় পৌঁছান গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস।
সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকার হয় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি। ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. ফখরুদ্দিন আহমদ। যা ‘ওয়ান-ইলেভেন সরকার’ নামে বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত।
এর আগে প্রায় ৩৫ বছর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় হয়। সেনাশাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর পঞ্চম জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছিলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ নামে পরিচিতি পায়।
সেবার নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন করে দলীয় সরকারের অধীনে। তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান এনে সংবিধান সংশোধন করা হয়।
ওয়ান-ইলেভেনের অভিজ্ঞতার পর আওয়ামী লীগই ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে। তখন এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা অংশ নিলেও ভরাডুবির পর সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলে।
এই তিনটি নির্বাচনই হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়। নির্বাচন ঘিরে নানা বিতর্ক আর অভিযোগের মধ্যে প্রতিবারই তারা বিপুল জয় পায়।
গত জানুয়ারির নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১ জুলাই শুরু হওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন শুরুর পর বড় ধাক্কা খায়। ওই আন্দোলনের জেরেই সরকার পতন হয়।
নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনে ১৩ বছর পর আবার ফিরলো সেই অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা।
ঢাকায় ড. ইউনূস, জানালেন তরুণদের কৃতজ্ঞতা 