বামপন্থী আন্দোলনের প্রবীণ কর্মী এবং তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মারা যান। তিনি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান শহীদুল্লাহ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্যসচিব অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ টেক্সাসে ছেলের বাসায় ছিলেন। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
তিনি বলেন, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঐতিহাসিক ও অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী কণ্ঠ হারালো।
মহৎ কর্মযোগী ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর পরিচিতি আছে। একজন প্রকৌশলী হয়েও তার মধ্যে সার্বক্ষণিক বিপ্লবীর চরিত্র পাওয়া যায়। জাতীয় স্বার্থ ও দেশের নানা সংকটকালীন মুহূর্তে তিনি দেশ ও মানুষের পক্ষে সরব ছিলেন।
খুলনা শহরের উপকণ্ঠে দৌলতপুর গ্রামে ১৯৩১ সালের ৩১ জুলাই শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম। শৈশবেই তার মেধার পরিচয় মেলে। ১৯৪৬ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক, ১৯৪৮ সালে তৎকালীন ব্রজলাল একাডেমী থেকে তিনটি লেটারসহ আইএসসি, ১৯৫০ সালে বিএসসি পাস করেন তিনি।
১৯৫০ সালে আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে পুরকৌশল বিভাগে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে পাশ করেন ও গোল্ড-মেডেল পান। পরবর্তীতে দেশের খ্যাতিমান প্রকৌশলী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
প্রকৌশলী শহীদুল্লাহ অনন্য মেধায়, অসাধারণ দক্ষতায়, সততা, নিষ্ঠা ও শ্রমে দেশের প্রকৌশলী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিজেকে আসীন করেছেন। ঢাকা মহানগরসহ দেশের নানা প্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বৃহৎ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা গড়ে উঠেছে প্রকৌশলী শহীদুল্লাহর মেধা ও মননে।
তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ সদস্য ছিলেন না। তবে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ। তার নেতৃত্বে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের কারণে ভারতে গ্যাস রপ্তানির উদ্যোগ বন্ধ হয়েছে। বিদেশিদের গ্যাস ব্লক ইজারা দেওয়াসহ খনিজ সম্পদ উত্তোলনে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের আওয়াজ উঠেছে। বিদেশি কোম্পানির কাছে চট্টগ্রাম বন্দর তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে।
