গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চাইলেন ড. ইউনূস

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:১৭ এএম

বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অতীতের ভুলগুলোকে সংশোধন করে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য।

শুক্রবার, নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। তিনি পুরো ভাষণ বাংলায় দিয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ আমি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এ মহান সংসদে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমাদের গণমানুষের, বিশেষ করে তরুণসমাজের অফুরান শক্তি আমাদের বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল রূপান্তরের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত ছিলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। পর্যায়ক্রমে তা গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর সারা পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখেছে কীভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ একনায়কতন্ত্র, নিপীড়ন, বৈষম্য, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজপথ এবং সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা তাদের অদম্য সংকল্প ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা থেকে দেশকে মুক্তি এনে দিয়েছে উল্লেখ করে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাদের এই সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যেই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত, যা এ দেশটিকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাঝে একটি দায়িত্বশীল জাতির মর্যাদায় উন্নীত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, আমাদের এই তরুণরা যে প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে তা আমাদের অভিভূত করেছে। বন্দুকের গুলি উপেক্ষা করেও, বুক পেতে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল আমাদের এই তরুণরা। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সোচ্চার হয়েছিল আমাদের তরুণীরা। স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা নিঃশঙ্কচিত্তে উৎসর্গ করেছিল তাঁদের জীবন। শত শত মানুষ চিরতরে হারিয়েছে তাদের দৃষ্টিশক্তি।

ড. ইউনূস আরও বলেন, আমাদের মায়েরা, দিনমজুর ও শহরের অগণিত মানুষ তাদের সন্তানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমেছিল রাজপথে। তপ্ত রোদ, বৃষ্টি, মৃত্যুভয়কে তোয়াক্কা না করে সত্য ও ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ব্যাপী রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিচালনা করার অশুভ ষড়যন্ত্রকে পরাভূত করেছিল তারা । জনগণের এই আন্দোলনে আমাদের জানা মতে, প্রায় আটশ’র বেশি জীবন আমরা হারিয়েছি স্বৈরাচারী শক্তির হাতে।

উদারনীতি, বহুত্ববাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার উপর মানুষের গভীর বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭১ সালে যে মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে আমাদের গণমানুষ যুদ্ধ করেছিল, সেই মূল্যবোধকে বহু বছর পরে আমাদের 'জেনারেশন জি' (প্রজন্ম জি) নতুনভাবে দেখতে শিখিয়েছে। এরকমটি আমরা দেখেছিলাম ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সময়েও।

বাংলাদেশের এই 'মুনসুন অভ্যুত্থান' আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষকে মুক্তি ও ন্যায় বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রেরণা যুগিয়ে যাবে উল্লেখ করে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমাদের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে আমি তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের নতুন বাংলাদেশের সাথে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাই। যে রাষ্ট্রকাঠামো দুঃসহ হয়ে গেছে, তার পুনর্গঠনের জন্য আমাদের তরুণেরা এবং দেশের আপামর জনসাধারণ একমত হয়ে আমার এবং আমার উপদেষ্টা পরিষদের উপর আস্থা রেখে সরকার পরিচালনার এক মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, কীভাবে রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্মম দলীয়করণের আবর্তে বন্দী করে রাখা হয়েছিলো, কীভাবে জনগণের অর্থ সম্পদকে নিদারুণভাবে লুটপাট করা হয়েছিল, কীভাবে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যকে অন্যায়ভাবে নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে দেশের সম্পদ অবাধে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। এককথায়, কীভাবে প্রত্যেকটি পর্যায়ে ন্যায়, নীতি ও নৈতিকতা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, এ রকমই এক অবস্থায় দেশকে পুনর্গঠন এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের উপর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অতীতের ভুলগুলোকে সংশোধন করে প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অর্থনীতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে, সব রাজনৈতিক দল এখন স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে।

এআরএস
বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের...
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র এবং স্থায়ী টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন, জাতিসংঘে এই দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ...
ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই একদিকে যখন স্প্যানিশ আর্মাডাদের উল্লাস, অন্যদিকে তখন মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল চরম উত্তেজনা ও কুৎসিত হাঙ্গামা! ম্যাচ শেষে কাতার আসরের চ্যাম্পিয়ন...
লক্ষ্মীপুরে এক শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক হিফজ মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ জুলাই) রাতে জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকার ‘পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদ্রাসা’ থেকে...
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ট্রফিটি যখন বিখ্যাত ব্র্যান্ড 'লুই ভিটোঁ'-র সুটকেস থেকে বের করে আনা হলো, তখনই বোঝা গিয়েছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের সমাপনী দৃশ্যটি কোনো সাধারণ ফুটবল ম্যাচ দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে না!...
নোয়াখালীতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর