জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলন চলাকালে গণহত্যা ও সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের অভিযোগের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়।
আগামী ১৮ ডিসেম্বর গণহত্যা মামলায় কারাগারে থাকা পলককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে এদিন সকালে জুলাই-আগস্টে গণহত্যা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে সবচেয়ে বড় গণহত্যা হয়েছিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। আহত অবস্থায় পড়ে থাকার পরেও ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়েছিলো। প্রায় চার শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয় যাত্রাবাড়ী এলাকায়। সেই হত্যাকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান। তার সঙ্গে আরও বেশকিছু অফিসাররা জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে ওসি (তদন্ত) জাকিরও একজন। তাঈম নামে একজন যুবককে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সময় ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়। পরে তাকে আবারও নির্যাতন করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এই মামলায় তাদের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিলো।
তিনি আরও বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য উদঘাটন করতে চাই। যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, কীভাবে কার নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলো, কোন কোন অফিসারের মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, গোলাবারুদ কোত্থেকে আসলো, কারা নির্দেশ দিলো— এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আমরা অনুমতি চেয়েছি। অফিস চলা সময়ে একদিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া হবে। এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানোর জন্য আমরা আদালতের কাছে দুই মাস সময় চেয়েছিলাম, আদালত এক মাস সময় দিয়েছে।
এর আগে ৪ ডিসেম্বর শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন তাঈম হত্যা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের শুনানি শেষে আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ইমাম হোসেন তাঈমকে কাছ থেকে গুলি করার পর থানায় নিয়ে মুখমণ্ডল বিকৃত করে মৃত্যু নিশ্চিত করার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় আবুল হাসান এজাহারভুক্ত আসামি।
জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেতার জামিন
স্ত্রী-সন্তানসহ সাবেক পাঁচ এমপির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা