বিচারহীনতার কারণে দেশে ধর্ষণসহ নারী নিপীড়নের ঘটনা কমছে না। ধর্ষকদের কঠোর ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না বলে মনে করছেন নারী অধিকার কর্মী ও আইনবিদরা। তারা বলছেন, ধর্ষণের মামলা বিচারের ক্ষেত্রে আদালতকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নারী নির্যাতন বন্ধে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর হবার আহবান জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে আটক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়া ও মাগুরায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষার্থীরা। গত তিন দিন ধরেই ধর্ষকদের কঠিন বিচার ও নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে উত্তাল রয়েছে দেশের শিক্ষাঙ্গণ।
কিন্তু গেলো কয়েক মাসে আরও বেশ কয়েকটি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি খবরের শিরোনাম হয়েছে একের পর এক পাশবিক ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পাচ্ছে না অন্ত:স্বত্তা নারীরাও। একই সঙ্গে জনপরিসরে নারীর বিরুদ্ধে বিষোদগার বেড়েছে শঙ্কাজনক হারে।
শুধুমাত্র গণমাধ্যমের তথ্য বলছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিদিন গড়ে ১২টি মামলা হয়েছে। অপর তথ্য বলছে ২০২০ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে অন্তত ছয় হাজার ৩০৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার ৪৭১ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু।
দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারের অপেক্ষায় আছে প্রায় দেড় লাখ ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলা আছে। মামলা নিষ্পত্তির হার মাত্র ৩ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বলছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচারের হাল।
সময় মতো কঠোর সাজা না হওয়াকেই ধর্ষণ ও নির্যাতন বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন অধিকার কর্মী ও নারী সংস্কার বিষয়ক কমিশনের সদস্য ড. ফৌজিয়া করীম। তার মতে ধর্ষকের শাস্তি হতে হবে দৃশ্যমান ও কঠোর। বিচারকদের হতে হবে আরও দায়িত্বশীল।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, আদালতের পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। বাংলাদেশে নারীর জন্য রাষ্ট্রকে পুরোপুরি নিরাপদ নয় উল্লেখ করে তিন বললেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আরো উদ্বেগজনক।
চোখের পাতা নেড়েছে ধর্ষণের শিকার শিশুটি
হিজবুত তাহরীরকে দমনে সাহসী পদক্ষেপের পরামর্শ দিলেন বিশ্লেষকরা