কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাসিক খাবারের বরাদ্দ (রেশন) কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। পর্যাপ্ত তহবিল জোগাড় করা না গেলে এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু খাদ্য সহায়তা কমিয়ে ছয় ডলার করা হতে পারে বলে আগে জানিয়েছিল ডাব্লিউএফপি।
তবে, নতুন সিদ্ধান্ত মতে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাথাপিছু মাসিক খাদ্যসহায়তা ১২ মার্কিন ডলার এবং নোয়াখালীর ভাসানচর আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৩ ডলার করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সহায়তা রোহিঙ্গাদের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিমান ধরে রাখতে অবদান রাখবে।
ডয়চে ভেলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বরাতে জানিয়েছে, কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য মাসিক ১২ ডলার ও ভাসানচরে অবস্থানরতদের জন্য ১৩ ডলার বরাদ্দ দেয়া হবে (আগে ছিল ১৫ ডলার)। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত একই ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে যে তারা জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৭৩ মিলিয়ন ডলারের নতুন আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। তবে আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও এই ‘বোঝা’ ভাগ করে নেয়ার ওপর জোর দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ডাব্লিউএফপি এর মাধ্যমে এই খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা দশ লাখেরও বেশি মানুষের জন্য অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা প্রদান করবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের এই ধরনের জীবন রক্ষাকারী সহায়তার বোঝা ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত।

এমন এক সময়ে এই অনুদানটি দেয়া হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসাবে বিদেশি সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁট এবং ফেডারেল ব্যয় ব্যাপকভাবে কমাতে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সর্ববৃহৎ সহায়তা প্রদানকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় দুই দশমিক চার বিলিয়ন ডলার সহায়তা করেছে দেশটি। কিন্তু জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর সাম্প্রতিক তহবিল স্থগিত করার ফলে অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল পরিষেবা কমাতে বাধ্য হয়েছে।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। এর মধ্যে ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে।
২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ-ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি চীনের