বাবা কেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সাথে যুক্ত, সেই অপরাধে রাষ্ট্রের নজরদারিতে ছিলেন নজরুল ইসলাম নামে এক পুলিশ পরিদর্শক। আর বিষয়টি গণভবন থেকে সরাসরি তদারকি করেছিলেন স্বয়ং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার বাবার ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিলো তা জানা যায়নি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ক্যাপ্টেন (অব.) ড. খান সুবায়েল বিন রফিক এক ফেসবুক পোস্টে এসব কথা জানান। প্রমাণ হিসেবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ রয়েছে এমন দু'টি নথির ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। তার পোস্টটি শেয়ার করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

একাত্তরের পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
কিছুদিন আগে ফারুকী ভাইয়ের আমন্ত্রণে একটি বিশেষ কাজে এখানে (গণভবন) গিয়েছিলাম। বাসা ঘুরে দেখলাম...এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী মহিলা ফেরাউনের আবাসস্থল। দেয়ালে দেয়ালে এখনো জ্বলজ্বল করছে মানুষের ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ।
হাঁটতে হাঁটতে পড়ে থাকা একটি কাগজে নজর পড়ল..যেখানে নজরুল ইসলাম নামে একজন পুলিশ পরিদর্শক এর পারিবারিক বৃত্তান্ত দেয়া, যার পিতা মুন্সিগঞ্জের বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমি জানি না ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার বাবার ভাগ্যে কী ঘটেছিল...আশা করি উনারা জীবিত ও সুস্থ আছেন।

বাবা কেন বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত সেটাই একজন পুলিশ কর্মকর্তার অপরাধ!! আর তা তদারকি করছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী!!! এ চিত্রটি বাংলাদেশের সকল সামরিক, আধা সামরিক ও প্রশাসনের পরিচিত এক দৃশ্য ছিল। এক সাইকোপ্যাথ মহিলার নিজেকে "এবসুলেট পাওয়ারফুল" হিসেবে প্রতিষ্ঠার চিত্র। আল্লাহ ছাড় দেন..কিন্তু ছেড়ে দেন না।

একবার ভাবুন...একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী ব্যক্তি দেশের ভেতরে কি নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন!!! একদলীয় শাসন কায়েম ও বিরোধী মত দমনে কতটা উদগ্রীব ছিলেন এই মহিলা। এরকম হাজারো মজলুম এর গল্প আপনি কান পাতলে শুনতে পাবেন।

খান সুবায়েল বিন রফিক আরও লেখেন, যারা বলেন জুলাই ২৪ শুধু ১ মাসের ফসল- আপনারা ভুল। ৩৬ জুলাই হচ্ছে দীর্ঘ ১৬ বছরের মানুষের বঞ্চনা, ক্ষোভ আর নির্যাতনের ফসল। তাই বলি.. ৩৬ জুলাই কারো একার না, এদেশ কারো বাপের না।
