জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানান, প্রয়োজনে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারে সেখানে হবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা জানান।
মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর মূল ভবনের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করতে আসেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান। এ সময় তাদের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামসহ অপর প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবন সংলগ্ন টিনশেড ভবন খালি হয়ে গেলে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-৩ গঠন করতে পারি। এটি করা গেলে গুমসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কাজ দ্রুত করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা নিয়ে বেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন আমাদের বিচারকসহ প্রসিকিউশন ও তদন্ত টিম। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। বিগত সরকারের হত্যা, গুম, নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধের বিচারের বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আইন উপদেষ্টা বলেন, দেশের ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আমাদের যে ন্যায়বিচার আছে, আইনের শাসন আছে ও মানবাধিকার আছে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বার্থে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এক হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং হাজারও মানুষকে পঙ্গু করার ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার অপরিহার্য-অনিবার্য। সেই বিচারকার্যের প্রথম থেকেই আমরা অবিচল আছি। বিচারের গতি নিয়েও আমরা সন্তুষ্ট।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, এর দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।
