তাসাওফপন্থি, ফকির, বাউলসহ সব ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের জুলুম বন্ধের আহবান জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এই আহবান জানান।
ওই পোস্টে মাহফুজ লেখেন, ‘মজলুম জালিম হচ্ছে, ফ্যাসিবাদবিরোধীরা ফ্যাসিবাদী হচ্ছে। পুরা পরিস্থিতি হতাশা ও ক্ষুব্ধতার।’
তিনি আরও লেখেন, ‘জুলুমকে ইনসাফ দিয়ে, সহিংসতাকে দরদ দিয়ে প্রতিস্থাপন না করে যারা নূতন মাত্রার জুলুম ও সহিংসতা করে বেড়াচ্ছেন, তারা ফ্যসিবাদের পুনর্জাগরণের জন্য দায়ী থাকবেন। সমাজে রাষ্ট্রে চিন্তা ও আচারের বৈচিত্র্যকে বাধাগ্রস্ত করলে ফ্যসিবাদ পুন: প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে।’

সবশেষে বাউলদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা
মানিকগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক বাউল শিল্পী আবুল সরকারের সমর্থক ও স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতাদের’ মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় উভয় পক্ষের অন্তত চার জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন।
পুলিশ জানায়, ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আবুল সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর তার মুক্তি ও শাস্তির দাবিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সকালে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করলে একই সময়ে আবুল সরকারের ভক্তরা মানববন্ধনের আয়োজন করে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই বাউল ভক্তদের ওপর হামলা চালায় ‘তৌহিদী জনতার’ একটি অংশ। এই হামলায় তিনজন বাউল ভক্ত ও অপরপক্ষের একজন আহত হয় বলেও জানায় পুলিশ। আহতরা মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আটক বাউল শিল্পী বর্তমানে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে রয়েছেন।

এদিকে বাউলদের ওপর নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, কথিত ‘তৌহিদ জনতা’ বাউলদের পুলিশ ও ডিবির সদস্যদের সামনেই যে যেভাবে পরাছেন পেটাচ্ছেন। চড়-থাপ্পর থেকে শুরু করে লাথি, ঘুষি, লাঠি দিয়ে পেটানো- এর সবই ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন নেটিজেনরা।
বাউলদের ওপর এই নির্যাতন শুধু মানিকগঞ্জেই নয়, খোদ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মধুপুরসহ অনেক স্থানে এমন খবর পাওয়া গেছে। এমনকি শিরক আখ্যা দিয়ে শতবর্ষী বটগাছ কেটে ফেলার খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
