ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহে হিন্দু ধর্মের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার সন্দেহভাজন সাত জনকে আটক করেছে র্যাব।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে এক বার্তায় এ তথ্য জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
সন্দেহভাজন আটকরা হলেন- মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) ও মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ভালুকা উপজেলার ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানা এলাকায় দিপু চন্দ্র দাস নামে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গাছে বেঁধে রেখে তাতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
দিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ফেসবুকে মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করেছিলেন। যদিও দিপুর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ছেলে শুধু একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতো। পরিবারের আরও দাবি, এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাতকারে দিপুর পরিবার দাবি করেছে, এর সঙ্গে কারখানার অন্য শ্রমিকরাও জড়িত থাকতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, একদল লোকের পিটুনিতে দিপুর গুরুতর আহত হন, পরে মারা যান। পরে তারা দিপুকে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখে এবং এক পর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এদিকে, দিপুর হত্যার এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে নিন্দা জানাই। নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না’।
