কোনো ধর্মীয় উৎসব বা ঈদ নয়, তবুও রাজধানীর পরিবহন টার্মিনালগুলোর চিত্র দেখলে মনে হবে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বড় কোনো উৎসব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে লাখ লাখ মানুষ। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে শহরবাসী এখন গ্রামমুখী।
মঙ্গলবার ভোর থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনালসহ কমলাপুর রেল স্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের ছাদেও ছিল যাত্রীদের তিল ধারণের ঠাঁই নেই অবস্থা। দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থেকেও যাত্রীদের চোখে-মুখে ক্লান্তির চেয়ে আনন্দের ছাপই বেশি স্পষ্ট। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, দীর্ঘ কয়েক বছর পর তারা এবার নিজের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়ে কম কিছু নয়।
লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে ঢাকা ছাড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানবাহনের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে। সাভারের হেমায়েতপুর, নবীনগর ও বাইপাইলে যাত্রীদের ভিড় বাড়ায় মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। যানজট নিরসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে মানুষ যখন উৎসবমুখর, তখন নগরীর ভেতরে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ঘরমুখো মানুষের চাপে দূরপাল্লার বাসে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, পুলিশের রিকুইজিশন আতঙ্কে রাজধানীর ভেতরে প্রায় ৮০ শতাংশ গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। ফলে অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত বাস পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার সকালে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ তৎপরতায় নিয়োজিত থাকবেন। সব শঙ্কা কাটিয়ে ভোট উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশ এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
