বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি-বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সব নাগরিককে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সোমবার (৮ জুন) ভারতের অভ্যন্তরে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে আটকে রাখার পর সোমবার ২১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্ত এলাকার শূন্যরেখায় বর্তমানে আর কেউ আটকে নেই।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ভারতীয় অংশে কাঁটাতারের লম্বা বেড়া দিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত রাখলেও বাংলাদেশের দিকে এ ধরনের কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রায়ই ভারতের সীমান্তরক্ষীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে পুশইন করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশে বিএসএফের ক্যাম্প সদৃশ ঘর রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধরে আনা ব্যক্তিদের এসব ক্যাম্পে জড়ো করা হয়। পরবর্তীতে রাতের আঁধারে বা জনশূন্য অবস্থায় সুযোগ বুঝে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার হরিপুর সীমান্তে প্রথম দফায় নারী ও শিশুসহ ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে টানা তিন দিন ধরে ওই ১১ জনকে শূন্যরেখায় আটকে রাখে বিএসএফ। একই সময়ে পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়েও ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবির বাধায় তারা সেখানে আটকে থাকে। দুই সীমান্ত মিলিয়ে মোট ২১ জন তীব্র মানবিক সংকটের মুখে পড়েন।
সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক সীমান্ত সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সীমান্তের উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পিছু হটে। সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ২১ জনকেই বিএসএফ তাদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়ে ক্যাম্প থেকে সরিয়ে দেয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন চলবে ১১ জুন পর্যন্ত।
এবারের সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর ও যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অপরদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থার কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
