আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তৃতীয় পর্যায়ের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ জন চা শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিএনপির প্রথম ও শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে পারলেই এ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলানো সম্ভব।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের সদ্য ঘোষিত বাজেটের সমালোচনা দূর করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘোষিত বাজেটে আমরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। অথচ অনেকে বলছেন, তারা এই বাজেট মানেন না। কেউ কেউ একে ‘চানাচুরের মতো’ কিংবা ‘জনবিরোধী’ বাজেট বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে আমরা শুল্ক উঠিয়ে নিয়েছি। এরপরও যারা এই বাজেটকে জনবিরোধী বলে, তারা কখনও জনগণের বন্ধু হতে পারে না।

রাজনৈতিক অপশক্তি সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। এই সব দল অশান্তি করার সুযোগ পেলে আমরা জনগণের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে পারবো না। তাই জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের দল। যতোবার দেশের মানুষ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পেরেছে, ততোবারই তারা ধানের শীষকে বিজয়ী করে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, চা শ্রমিক নেতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই কার্ড বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
