১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির সুনির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে কেবল পুরনো চুক্তি নবায়ন নয়, বরং ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে অন্তর্ভুক্ত ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে এনে নতুন কাঠামোর চুক্তিতে যেতে চায় বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বিআইআইএসএস (বিস) মিলনায়তনে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনার শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
চুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, নতুন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কারিগরি পর্যায়ে এরই মধ্যে আলোচনা ও কাজ চলছে। আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই দুই দেশের প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন করে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী জানান, শুধু গঙ্গা নদীই নয়, তিস্তাকেও দীর্ঘমেয়াদি ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যেই বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি করার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আগামী বছরে সরকার মূল কাজ শুরু করতে চায় বলেও জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশের জন্য মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট। যেখানে বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ এর সুফল পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে।
সেমিনারে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ভারত-বাংলাদেশ নদী কূটনীতি প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টনসহ যেকোনো জটিল ও অমীমাংসিত সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এতোদিন ধরে এই চুক্তি নবায়ন নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও পানিসম্পদ মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন শর্তাবলি যুক্ত করে চুক্তির কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট হলো।
