দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মতোই জনগণ তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে উপযুক্ত জবাব দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সব শক্তি দিয়ে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।
বৃহস্পতিবারদুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচারকারীরাই আজ সীমান্তবর্তী ওপার থেকে নানা চক্রান্ত ও উসকানি দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজ যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে। কিন্তু এই ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের মিল-কারখানা ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।”
কারখানাগুলো এ দেশের মানুষের ও শ্রমিক ভাই-বোনদের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে খেটে খাওয়া মানুষ এবং তাঁদের সন্তানেরা। তাই দেশ গঠনের এই সময়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
মজুরি বোর্ড ও নতুন কর্মসংস্থানের ঘোষণা: শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে দাবি পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে। আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে, যাতে শ্রমিকরা আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়নের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এককালের সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চল খুলনাকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে হবে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
মোংলায় সমঝোতা স্মারক সই ও মাজার জিয়ারত: এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন’ (সিআরসিসি)-এর মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন।
কাটাখালীর পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হযরত খান জাহান আলীর মাজার জিয়ারত করেন এবং পরবর্তীতে খুলনায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
