ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পূর্বাপর

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:৫৩ পিএম

একটি স্প্রিংকে সব দিক থেকে যত জোরে চাপ দেয়া হবে, এটি তার আগের অবস্থানে আরও জোরে ও দ্রুত ফিরে আসবে। বিষয়টি আপনাদের সব সময় মনে রাখা দরকার। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময় এই বার্তা দিয়েছিলেন পুতিন। স্নায়ুযুদ্ধের আগের অবস্থায় কি রাশিয়াকে নিয়ে যেতে চায় পুতিন?

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা

বিশ বছর আগে বিশ্ব এমনই একটা হামলা দেখেছে। যেটা করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। হামলা হয়েছিলো ইরাকে। আজ যারা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ওই দিন তারাই যুদ্ধ করেছিলো। সাদ্দাম হোসেনের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিলো৷ আর যে রাশিয়া যুদ্ধ শুরু করছে, সেই রাশিয়া ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলো। এখন সেই রাশিয়া ইউক্রেনের মানুষের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে। আমরা আমজনতা সেদিনের মতো আজো টেলিভিশনের সামনে আছি। যুদ্ধ দেখছি মিডিয়ার চোখে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই আগ্রাসনকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের উপর হামলা বলে সবার মতো আমিও মনে করি। এই হামলা নিয়ে সবচেয়ে সরব আমিরিকা, বৃট্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইতোমধ্যেই জাপান, অস্ট্রেলিয়া আমিরিকা, বৃট্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার কিছু ব্যাংক ও ব্যক্তিদের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যে সুইফট সিস্টেম আছে সেটিও সীমিত করে দিয়েছে।  

মহড়ার নাম করে ইউক্রেনকে বছরের শুরু থেকেই ঘিরে ধরতে শুরু করে রাশিয়া। আর তখন থেকেই সরব হয়ে ওঠে আমিরিকা ও তাদের মিত্র ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। আজ হামলা হবে, কাল হামলা করবে বলে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে যায়। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে নানা ধরণের ভবিষ্যৎ বাণী দিতে থাকে আমেরিকা। 

কিন্তু ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দনেক্স (Donetsk) ও লুহানক্স (Luhansk)। স্বাধীন প্রজাতন্ত্রের স্বীকৃতি দিয়ে দিবে এমন ভবিষ্যৎ বাণী দিতে পারেনি বিশ্বের পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। যেই উদ্যেগকে ‘বুদ্ধিমানের চাল’ বলে মন্তব্য করছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পুতিনের ১০ বছরের প্রস্তুতি

তবে হুট করেই বুদ্ধিমানের মতো চালটি দেননি পুতিন। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলের পরই সর্তক হয়৷ ওঠেন। এজন্যই  রাশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার মাত্র ১৬% ডলারে রাখা। পাঁচ বছর আগেও এর পরিমাণ ছিল ৪০%। 

অন্যদিকে রাশিয়ার বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় ১৩% রাখা চীনা মুদ্রা রেনমিনবিতে। তাই আমিরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় সহজেই ধরাশায়ী হবে না রাশিয়া এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায। হামলার কারণে বিশ্বে জ্বালানী তেলের দাম বাড়বে।  দ্বিতৃীয় সর্বোচ্চ তেল  উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে এর সুফল রাশিয়া ঘরেই যাবে। 

২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি'র কর্ণেল  ভ্লাদিমির পুতিন।  এরমধ্যে ৫ বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে।

ইরাক, লিবিয়া ও আরব বসন্ত

১/১১ সন্ত্রাসী হামলার জেরে  অফগানস্তানে তালেবান সরকার উৎখাত হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৫ বছর মার্কিনীদের আজ্ঞাবহ কথিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় ছিলো। তাদেরও পতন হয়েছে। ক্ষমতা এখন তালেবানদের হাতে। সাদ্দাম হোসেনকে জীবানু অস্ত্র রাখার কথিত অপরাধে উৎখাত করেছে মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র ও ন্যাটো। পরে ফাঁসি দিয়ে হত্যাও করেছে। উৎখাত হয়েছে মুয়াম্মার গাদ্দাফির। যিনি লিবিয়াতে ক্ষমতায় ছিলো কোনো পদবী ছাড়াই। তাকেও হত্যা করা হয়েছে। দুইটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ তছনছ হয়ে গেছে ন্যাটোর সরাসরি হামলায়। কয়েক লাখ মানুষ মারা গেছে। ঘর বাড়ী ছাড়া হয়েছে আরো লাখো মানুষ।  যুক্তরাষ্ট্র নিজে ও মিত্র ন্যাটো দিয়ে এভাবেই শায়েস্তা করা হয়েছে যেসব দেশ কথা মেনে চলেনি। 

এরপর আনা হলো আবর বসন্ত। মানুষকে পথে বসিয়ে রেখে অন্দোলন। তিউনেশিয়াতে যার সূত্রপাতা হলো। এরপরে মানুষদের বসানো হলো কায়রোতে। সেখানে পতন হলো ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা হোসনী মোবারক সরকারের। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় এলো ইসলামপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড। 

যাদের পছন্দ নয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের। হটিয়ে দেয়া হলো সেই সরকারকে। মোহাম্মদ মুরসি শেষ পর্যন্ত জেলেই মারা গেলো। এখন দেশটিতে আবার সেই সেনাবাহিনীই ক্ষমতায়, ব্যক্তি শুধু ভিন্ন। পার্থক্য এখনকার সেনারা মার্কিন অজ্ঞাবহ। ফিলিস্তিনে যাই হোক কায়রো ফিরেও তাকায় না। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচত হলে মিশরে আবারো উগ্র ইসলামপন্থীরাই ক্ষমতা নেবে। 

এই আরব বসন্তের ঢেউ বেশ কিছু দেশের সরকার হটিয়ে, নাস্তানাবুদ করে নিয়ে যাওয়া হলো সিরিয়ায়। বাশার আল আসাদের সরকাকে হটাতে। মানুষের ক্ষোভ তো থাকতেই পারে সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু আরব বসন্ত নামে আন্দোলনের পেছনে যে যুক্তরাষ্ট্র তথা সিআইএ ছিলো সেটি বুঝা গেলো যখন আসাদের পতন ঘটলো না তখন। সেনাবাহিনীর একটি অংশকে সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহী বানানো হয়। আইএস তৈরি করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হলো।

অস্ত্র পেয়ে সংখ্যা বিরাট হবার পর তালেবানদের মতো আইএসও তাদের সৃষ্টিকর্তাদের কথা শোনা বন্ধ করে দিলো। নিজেরা ইরাক, সিরিয়া সীমান্ত মিলে আলাদা ইসলামিক স্টেট তৈরি করলো। সারা দুনিয়ার উগ্র জঙ্গিবাদী মুসলিম তরুণরা সেখানে জড়ো হলো। যারা যেতে পারলো না তারা মনে মনে সমর্থন দিলো, নিজে দেশে আইএস এরমতো সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখতে লাগলো। তারপর একটা দীর্ঘ মেয়াদের প্রক্সিযুদ্ধ শুরু হলো, যা এখনো চলমান। 

আইএস ভেঙ্গে গেছে কিন্তু যুদ্ধ জারি আছে। কারণ পশ্চিমাদের তৈরি অস্ত্র এখন মধ্য প্রাচ্যের মানুষের হাতে হাতে। সিরিয়ার বাশার আল আসাদকে মদত দিলো রাশিয়া, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। টিকে গেলো আসাদ সরকার। কিন্তু দেশটির আর কিছু নেই। লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া। 

আগ্রাসী পুতিন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটো? 

পুতিনকে বলা হয়, হত্যাকারী, আগ্রাসী। কারণ সরকার বিরোধীদের পুতিন মেরে ফেলে। লন্ডন বা জার্মানীতে গিয়েও কেজিবির সদস্যরা পুতিনের শত্রুকে হত্যা করেছে। এমন হত্যা কি শুধু পুতিনই করে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি করে নাই? ৩ জানুয়ারী ২০২০ ইরাক বিমান বন্দরে কি ঘটেছে? ইরানের রেভোলিউশনারী গার্ডর্সের অভিজাত কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলাইমানীকে হত্যা করা হয়। 

পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে তাকে 'মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়েছে'। (খবর বিবিসি) বাগদাদ বিমান বন্দরের কাছে এক ড্রোন হামলা হয। ওটা কি যুদ্ধক্ষেত্র ছিলো? এমন উদাহরণ আরো আছো। গুয়ান্তানামো বে কারাগারে ২০ বছর ধরে শতশত বন্দির উপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকে করেছে। বিনা বিচারে আটকে রেখেছে। আফগানিস্তানে নির্যাতন করেছে। 

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার আর সুশাসনের কথা বলে এসব করা হয়েছে। তাহলে পুতিনের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বা ন্যাটোর পার্থক্য কোথায়? আমি তো মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠ দেখি।

পার্থক্য একটা আছে, সেটা হলো, আমিরিকার প্রেসিডেন্ট বদল হয় কিন্তু নীতি বদল হয় না। এক প্রেসিডেন্টের শুরু করা যুদ্ধ আরেক প্রেসিডেন্ট চালিয়ে নেয়। তাই বুশের শুরু করা যুদ্ধ  বারাক ওবামা চালিয়ে গেলেও সে শান্তিতে নোবেল পায়!  

আর রাশিয়ার সুবিধা বা অসুবিধা যেটাই বলেন, সেটা হলো নীতি ও প্রেসিডেন্ট কোনোটারই বদল হচ্ছে না। যা করছে এক ব্যাক্তি। তাই মোটা দাগে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম এক নামের ওপর দায় চাপাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে যেটা পারে না। কারণ তারা প্রেসিডেন্ট বদল করে ফেলে। 

সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা কি নতুন?

বলা হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একটা নর্মস তৈরি হয়েছে কেউ কাউকে হামলা করবে না। বড় দেশ ছোট দেশের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র ন্যাটো তো সেটা করেনি। তাহলে, ইরাক, লিবিয়াতে কিভাবে হামলা চালানো হলো? সেই হামলার অনুমোদন জাতিসংঘ তো দেয়নি। যেমনটা দেয়নি ইউক্রেন হামলার। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা হলো আমার সাথে থাকো, আমার কথা শোনো, আমার পা চেটেপুটে দিবে আমি তোমাকে ছায়া দিয়ে রাখবো। যেটা তারা করে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে। গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই, জামাল খাসোগিকে হত্যা করা হলো। মুহাম্মদ সালমান তাদের প্রিয় বন্ধু। আস্থাভাজন। সালমান নির্বিচারে মানুষ মারছে সুদানে, দুর্ভিক্ষ লেগে গেছে। এ নিয়ে টু শব্দটি নেই মার্কিনীদের মুখে। চরম এক মৌলবাদী সরকার ভারতে। ভিন্ন মত, ধর্ম কোনো কিছুই যেখানে আর নিরাপদ না। হিন্দুত্ববাদীদের বিষয়ে মার্কিন সরকারের একটি কাশির আওয়াজও পাওয়া গেলো না। 

আমার কথা শুনবা না শায়েস্তা করে ছেড়ে দেবো। কোয়াডে যোগ দিবা না। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিবো।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার, ভারত মিলে নতুন সামরিক জোট। যাতে যোগ দিতে চায় না বাংলাদেশ। ফলাফল পুলিশ ও RAB এর কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা। আরো নিষেধাজ্ঞা আসবে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে তাদের ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে। 

আর এটাই আমিরিকা। আমি তো আমিরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না। মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠই তো। 

এতো বছর রাশিয়া চুপ ছিলো কারণ রাশিয়ার অর্থনীতির ভিত্তি দূর্বল ছিলো। উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি  চীনের সাথে রাশিয়ার চুক্তি হয়েছে নিঃশর্ত সীমাহীন বন্ধুত্বের। তাই রাশিয়া কোনো কিছু করতে দ্বিধা করবে না সেটাই স্বাভাবিক। 

এমনই এক সময় বেছে নিয়েছে রাশিয়া, যখন যুক্তরাষ্ট্র ২২ বছর ধরে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ করে করে ক্লান্ত। সিরিয়াতে আমিরিকাকে ঠেকিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। আফগানস্তানে তালেবানের হাতে ক্ষমতা গেছে মার্কিন পরিকল্পনা ও ধারণাকে ভুল প্রমান করে। সেখানেও রাশিয়ার ভূমিকা ছিলো। তাই পশ্চিমা ঘেষা হতে চাওয়ার শিক্ষা দেয়ার এখনই সময়।   

কারণ রাশিয়া মনে করে মিনাস্ক চুক্তি ভঙ্গ করেছে  ইউক্রেন।  মিনাস্ক চুক্তির প্রধান একটি শর্ত ছিল পূর্ব ইউক্রেন থেকে সামরিক স্থাপনা, সামরিক সরঞ্জাম ও ভাড়াটে সেনাদের সরিয়ে নিতে হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনে  প্রায় ১০ হাজার বিদেশি সামরিক বিশেষজ্ঞ স্থায়ীভাবে রয়েছে। যার  

চার হাজারই যুক্তরাষ্ট্রের। আর দনবাসের দুই বিচ্ছিন্ন স্বঘোষিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে আলোচনায়ন বসারও শর্ত ছিলো চুক্তি। পশ্চিমাদের সমর্থন পেয়ে যেটি মানতে অস্বীকার করে ইউক্রেন। বরং বিচ্ছন্নতাবাদীদের শায়েস্তা করতে সেনা সমাবেশ ঘটায়। হামলা চালায়। যেটাকে অজুহাত হিসেবে নিয়েছে রাশিয়া।

আগেই বলেছিলাম দেশে দেশে সরকার পতনে উস্কাানি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের অভ্যুত্থানে সমর্থন দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র। তখন রাশিয়াপন্থী সরকারের পতন ঘটে। বর্তমান ভালোদিমির জেলেনেস্কি যিনি ‘আমি ইউক্রেনের সেবক নামে’ টেলিভিশনে রম্য অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় উপস্থাপক ছিলেন। সেখান থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট বনে যান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সাথে North Atlantic Treaty Organization বা NATO প্রতিষ্ঠিত হয়। এক সময় যেটার সদস্য হবার বাসনাও ছিলো রাশিয়ার। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোট গঠিত হয়েছিলো, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, ইটালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে আর পর্তূগালকে নিয়ে।

নির্দিষ্ট কতগুলো অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জামের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তৎকালীন ওয়ারশো জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সালে একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল। যে চুক্তি অনুযাযী সোভিয়েতনভুক্ত দেশ কাজাখস্তান, বেলারুশ, ইউক্রেন ও পোল্যান্ডে থাকা রাশিয়ার পারমানবিক ওয়ারহেডগুলোকে ধ্বংস করা হয়। রাশিয়া প্রতিশ্রুতি দেয় এসব দেশের সার্বভৌমত্ব রাশিয়া আঘাত হানবে না৷ আর ন্যাটো দেশগুলোকে সদস্য ভুক্ত করবে না বলে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেয়। রাশিয়া মনে করে যুক্তরাষ্ট্র তথা ন্যাটো সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি। 

কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়াকে ২০০৪ সালে ন্যাটোর সদস্যপদ দেয়া হয়। ওয়ারশ জোট (যে চুক্তিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভুক্ত হয় কিছু দেশ) এ থাকা দেশগুলোর মধ্যে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, আলবেনিয়া, এবং চেক প্রজাতন্ত্রকে ন্যাটো’র সদস্য করা হয়। এখন ইউক্রেনকে সদস্য করার তোড়জোড় করা শুরু হয়। 

আর গোলমাল বাঁধে এখানেই। কিন্তু ইউক্রেনকে ন্যাটো ভুক্ত হতে দিতে চায় না রাশিয়া। কারণ কৌশলগত অবস্থানের জন্য রাশিয়ার কাছে ইউক্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণ সাগরে প্রবেশের জন্য রাশিয়ার ইউক্রেনকে দরকার। সেটা হোক বাণিজ্যিক বা সামরিক। ১২ মাস সচল থাকে এমন কোনো বন্দর রাশিয়ার নেই। রাশানপন্থি সরকারের পতন হলে ২০১৪ সালে যে কারণে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। এর আগে ২০০৮ সালে জর্জিয়াতেও প্রবেশ করে রাশিয়া। কারণ ওই দেশটিও ন্যাটোতে যুক্ত হবার আকাঙ্খা করেছিলো।

যুদ্ধের জয় পরাজয়

পৃথিবীর সব যুদ্ধে মানুষের পরাজয় হয়েছে। এখানেও মানুষেরই পরাজয় ঘটবে। এখন পর্যন্ত যেটা মনে হচ্ছে সরাসরি ন্যাটো বা আমিরিকা যুদ্ধে নামবে না। তবে রাশিয়ার মিসাইল যদি পোল্যান্ড বা ন্যাটো ভুক্ত কেনো দেশে হামলা করে বসে তখন সব হিসেব নিকেষ বদলে যেতে পারে। 

তবে পশ্চিমা শক্তি ইউক্রেনকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।  তবে জেলোনেস্কি সরকারের পতন হয়ে গেলে দাবার দান পুরোপুরি  ঘুরেও যেতে পারে পুতিনের পক্ষে। তবে কি অর্জন করে সেটা দেখার বিষয়। আফগানস্তান ও ইরাকে যেমন স্থায়ী জয় পায়নি আমিরিকা। এখানেও রাশিয়া জয় পাবে না।

যুদ্ধের প্রভাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে দুনিয়ার সব দেশে। ইউক্রেন থেকে গম আসে বাংলাদেশে। সেখানে বড় ধরণের প্রভাব পড়বে। সারা দুনিয়াতে পণ্যের দাম বাড়বে। বাংলাদেশের মতো ছোট দেশের সার্বভৌমত্বে প্রভাব পড়তে পার এমন যুদ্ধে। 

উগ্রবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকলে যে কোনো অজুহাতে পাশের ছোট দেশে হামলা চালিয়ে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে যুদ্ধ একটা পান্তা ভাত হয়ে যাবে। সার্বভৌমত্ব হারানোর শংকায় থাকবে ছোট ও দূর্বল সামরিক শক্তির দেশগুলো।

ঠান্ডা যুদ্ধে রাশিয়ার যে পতন হয়েছিলো সেটা মেনে নিতে পারেনি পুতিন। স্বপ্ন দেখেন সংযুক্ত রাশান ফেডারেশন গড়ার। কিছু না হলেও দেশগুলোতে রাশিয়ার মদতপুষ্ট সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। নাস্তানাবুদ করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। 

কারণ নিজ চোখে রাশিয়ার পরাজয় পুতিন দেখেছেন। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন সেভাবেই আইন করেছেন। একের পর একে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করেই চলেছেন পুতিন। সবশেষ শিকার হলো ইউক্রেন।


লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, একাত্তর টেলিভিশন।

ইমেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেতা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা আট মিনিটে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাইবান্ধায় আলাদা বজ্রপাতের ঘটনায় মা-ছেলে ও এক কিশোরসহ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা দুটিতে আলাদা বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে মানুষের চলাচলের সরকারি রাস্তা টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদ করায় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার...
বরগুনা জেলা পরিষদের সদর ডাকবাংলোর তিনতলার দুটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই শিশু কন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহগুলো...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর